এসকে এম মহসিন রেজা , উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা) :
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত সোমবার থেকে থেমে থেমে ও কখনো ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক, জেলে ও অন্যান্য নিম্নআয়ের মানুষ। কাজকর্ম প্রায় বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয়-রোজগার নেই। প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবারের অনেকেই এখন ধারদেনা করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।
সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। উপজেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ দিনমজুরি, ভ্যানচালনা, কৃষিকাজ, মাছ ধরা, চিংড়িঘের ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। টানা বৃষ্টিতে মাঠের কাজ, নির্মাণকাজ, পরিবহন ও বাজারকেন্দ্রিক অনেক পেশাই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।
কয়রা সদর এলাকার ভ্যানচালক কাজল বলেন, “এক দিন ভ্যান চালাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যাত্রী নেই, বের হলেও ভাড়া পাওয়া যায় না। ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। হাতে কোনো টাকা নেই।”
দিনমজুর শাহজাহান বলেন, “প্রতিদিন কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই বাজার করি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে কোনো কাজ নেই। ঘরে খাবারও কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে আরও বড় বিপদে পড়তে হবে।”
শুধু শ্রমজীবী মানুষ নন, বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হাটবাজারেও। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় দোকানপাটে ক্রেতা কম। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের আয়ও কমে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন বেড়িবাঁধের দুর্বল অংশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি স্থানে আগে থেকেই বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন অব্যাহত বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নদীর জোয়ারের চাপ বৃদ্ধি পেলে বাঁধের দুর্বল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বেড়িবাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। এতে হাজার হাজার একর কৃষিজমি, মাছ ও চিংড়ির ঘের এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীতে ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান ও ইয়াসের সময় বাঁধ ভেঙে দীর্ঘদিন দুর্ভোগে থাকার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারও তাঁরা শঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, প্রয়োজনীয় নজরদারি জোরদার এবং কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

