মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:
খুলনার কয়রা উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ত্রাণ এবং কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, দরিদ্র এবং অসহায় মানুষের জন্য নির্ধারিত সহায়তার তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস), তার আত্মীয়স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ বিতরণ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্য ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় ২০১ জনের জন্য মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা বিতরণের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ পাইকগাছা উপজেলায় বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি যখন উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, দেখা যায় সেখানে তৃতীয় নাম হিসেবে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আবু ওবাইদার নাম রয়েছে। প্রথম নাম হিসেবে সংসদ সদস্যের ভাতিজা আহসান হাবিবের নাম রয়েছে। তালিকার ষষ্ঠ স্থানে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আসমাতুল্লাহ এবং দশম স্থানে কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল ইসলামের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল এবং জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্যের এপিএস, আত্মীয় এবং দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে, যখন সাধারণ উপকারভোগীদের মাঝে ২ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ কারণে তালিকাভুক্ত কিছু নারী উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নারী উপকারভোগীদের মধ্যে, নাসিমা খাতুন, রেহেনা পারভীন, ফাতেমা খাতুন ও তাসলিমা বেগম বলেন, উপজেলা পরিষদে ডেকে তাদের ২ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এটি সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার। পরবর্তীতে অন্যদের ৪ হাজার টাকা দিয়ে জানতে পেরে তারা অবাক হয়েছেন।
অতীতের তদন্তে আরও জানা গেছে, তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি আর্থিকভাবে সচ্ছল। ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ১০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেন। তালিকায় ১৫২ নম্বরে তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম সরদারও আছে। এদিকে এপিএস আবু ওবাইদার স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং তাদের পরিবার এলাকায় পরিচিত সচ্ছল পরিবার হিসেবে।
এ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আবু ওবাইদা যিনি সংসদ সদস্যের এপিএস হিসেবে পরিচিত, তিনি বলেন , “এ তালিকা আপনারদের দেখার কথা নয়। এটি গোপন থাকার আবেদন ছিল।” তবে তিনি নিজের নামে সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি।
অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ফোনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেছেন, “তালিকায় বেশিরভাগ নাম গরিব ও অসহায় মানুষের। এর মধ্যে কিছু দলীয় সদস্য হতে পারে, কিন্তু তারাও দরিদ্র। সাংসদের এপিএসের নাম তালিকায় কিভাবে এসেছে, আমি জানি না।”
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের তরফ থেকে গরিব ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করা সহায়ক অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কিনা, তা পরীক্ষা করা অতীব জরুরি। এছাড়াও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করছেন তারা।

