গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধ:
রাজধানীর মুগদায় জে.এস গ্রামার হাইস্কুলের প্রবেশদ্বারে উদ্দীপনাময় পরিবেশ ও জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়, সুবিধাবঞ্চিত ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম “ফুলের হাসি স্কুল”-এর নতুন শাখা।
একই সঙ্গে মানবিক সংগঠন “সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশন”-এর কার্যক্রমও শুরু করা হয়।
“যার নাই শিক্ষা, তার নাই রক্ষা; সৎ পথে চলবো, সুন্দর জীবন গড়বো” এই স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যান তসলিম হাসান হৃদয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ফুলের হাসি স্কুলের উপদেষ্টা রবি চৌধুরী।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ এবং আইনপ্রণেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অফিসের সাবেক রাজনৈতিক উইং কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান (মনির) মাতুব্বর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ক্যাপ্টেন মহসিন আলম, মহিউদ্দিন আমিন, সংগীতশিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকাশ ইসলাম, রাব্বি গ্রুপের জাতীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক মোঃ শওকতুজ্জামান খান, বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ রক্তদাতা এবং সমাজসেবক জাভেদ নাছিম, জে.এস গ্রামার হাইস্কুলের চেয়ারম্যান মোঃ শামসুজ্জাহান, আইনজীবী তানভীর হোসেন খান, সিড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আরিফুল ইসলাম, হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব কামরুল হাসান মেহেদি এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংগঠনের সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবি চৌধুরী উল্লেখ করেন,
“শিক্ষা হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সমাজের দরিদ্র ও অবহেলিত জনগণের জন্য ‘ফুলের হাসি স্কুল’ যে মহান উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণা জাগানিয়া। এখানকার লক্ষ্য হচ্ছে শুধু শিক্ষা নয়, মানুষের স্বপ্ন দেখানো এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার পথ প্রদর্শন করা।”
সভাপতির ভাষণে মারুফ সিকদার জানান,
“মানবতার কল্যাণে সব সময় ফুলের হাসি স্কুলের পাশে থাকবে সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশন। আমরা শিক্ষার ও মানবিক উন্নয়ন লক্ষ্যে একত্রে কাজ করতে চাই।”
ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তসলিম হাসান হৃদয় মন্তব্য করেন,
“ফুলের হাসি স্কুল দেশের একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা কার্যক্রম, যেখানে শিক্ষার পরিবর্তে খাদ্যসামগ্রীর প্রদান করা হয়। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা মানুষের আত্মমর্যাদা ও টিকে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমরা চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকায়ও এই মানবিক কার্যক্রম প্রসারিত করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে মানবিক ও সামাজিক সচেতনতার জন্য সিড ফাউন্ডেশন, হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ, পথের ইশকুল, শুভ চন্দ্র লাল সবুজের পতাকা স্কুল এবং Nobody To Somebody-কে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
এছাড়াও শিক্ষা বিস্তারে গভীর অবদানের জন্য জে.এস গ্রামার হাইস্কুল, সমাজসেবা এবং রক্ত দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য জাভেদ নাছিম এবং লেখালেখি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মিজানুর রহমানকে পুরস্কৃত করা হয়।

