মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় পুকুরে ডুবে ৩ বছর বয়সী হাবিব নামে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া অঞ্চলে এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে। নিহত হাবিব সেই এলাকার ফয়সাল মিয়ার একমাত্র সন্তান ছিল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের আড়াইটার সময় হাবিব বাড়ির পাশের শিশুদের সাথে খেলছিল এবং সেদিন কিছুটা অসাবধানতায় পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পুকুরে তার মৃতদেহ ভেসে উঠেছে দেখতে পান। এরপর তাকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নেয়া হলে কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কল ভূঁইয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খেলাধুলা করতে গিয়ে শিশুটি দুর্ঘটনাক্রমে পুকুরে পড়েছিল। যদিও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে, তবে বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। এ ঘটনা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
Author: দৈনিক নবদিগন্ত
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপকর্ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, তার এসব কার্যকলাপের ফলে কালিহাতী থানা পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গেই, সোহেল শিকদার নামের আনিসের একজন সহযোগীকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। তথ্য অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কনস্টেবল ক/১২৯৬ বিপি ৯২১১১৩৭১৭১ আনিসুর রহমান আওয়ামী সরকার আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ের মধ্যে তিনি পদস্থ তিনটি ওসির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন এবং এর ফলে কালিহাতী উপজেলার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সদস্য ও বিভিন্ন অন্যায় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্ট মাসে কালিহাতী উপজেলার আন্দোলনের বিরোধিতা করার জন্য বিভিন্ন আওয়ামিলীগ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলার ভয়ে হুমকি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। ওই সময় আনিসুরের ওসিদের দেহরক্ষী হওয়ার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে ভয় পেত এবং জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেল…
মো: আল-মাহফুজ শাওন: বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আবারো সুন্দরবনে সক্রিয় ভয়ঙ্কর বনদস্যু করিম শরীফ দলের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে পরিচিত এই অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের পর দলের তিন সদস্যকে ধরা হয়েছে, তাদের কাছে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই খবর নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ডের সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মে বিকেল থেকে শুরু করে দুই দিন ধরে অভিযানের মাধ্যমে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল এলাকায় অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ডের মোংলা ও কোকিলমনি স্টেশন। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ডাকাতরা গুলি ছুঁড়তে শুরু করলে আত্মরক্ষার জন্য সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। এরপর ধাওয়া করে কোস্ট গার্ড তিন ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মেহেদী হাসান (২৫), রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এনায়েত (২৫)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুইটি ওয়াকিটকি এবং চারটি চার্জার। আটকের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোস্ট গার্ড জানাতে পেরেছে যে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল এলাকায় জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি এবং বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। এছাড়াও, মাছ ধরার ট্রলার ও বনজ…
নিজস্ব প্রতিবেদক, আলীকদম: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার একটি নববধূ, সংপ্রং ম্রো (১৮), হামের উপসর্গ এবং ডায়রিয়ার জটিলতায় মারা গেছে। শুক্রবার সকালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেওলা ম্রো পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার প্রক্রিয়ার মধ্যে সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়ার কারণে তার অবস্থার অবনতি হয় অতি সংকটাপন্ন পর্যায়ে। এদিকে, বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুমরাও ম্রো (১) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। এর ফলে উপজেলায় হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা গেছে, ১৫ মে পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩২০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১৯০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৩ জন রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি শাখা থেকে আরও ৫১ জন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের বিস্তার প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা…
মোঃ নোমান হাসান খাঁন, স্টাফ রিপোর্টার: তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত এক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত আচরণ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা সহকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, নারী শিক্ষিকাদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, পূর্বে অন্য জেলায় কর্মরত অবস্থায় এক শিক্ষিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় এবং পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহে গড়ায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আরেক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি…
মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার: ৫ মাস ২৫ দিন বন্ধ থাকার ফলে বহুমূল্যবান চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল আবার শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বাড়া ও নাব্যতা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরি পরিষেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে উত্তরের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক মো. নুরুন্নবী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে রৌমারী ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরিটি চিলমারীর দিকে যাত্রা শুরু করেছে। পরবর্তীতে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটিও চালু হয়েছে। প্রথমে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল আরম্ভ হলেও পরবর্তীতে পুরোপুরি কার্যক্রম চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদে দীর্ঘদিন প্রতীক্ষিত চিলমারী-রৌমারী ফেরি পরিষেবা চালু হয়। তবে শুরু থেকেই নাব্যতা সংকট এই নৌরুটের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন সময় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সর্বশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে এ রুটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও আশেপাশের জেলার হাজার হাজার মানুষের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনের সময় এবং মূল্য উভয়ই বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নৌপথের দূরত্ব প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার কমানো হয়েছে। এর ফলে ফেরি চলাচল আরও সহজ, নিরাপদ এবং সময়ের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪…
এরশাদ রানা, কুমিল্লা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আবুল কালাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, আবুল কালাম মজুমদার পূর্বে লালমাই উপজেলায় একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে চাঁদাবাজির কারণে তিনি একাধিকবার জনরোষের শিকার হন, এরপর সংশ্লিষ্ট পত্রিকার পরিচয়পত্র বাতিল করে দেয়া হয়। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে চৌদ্দগ্রামে ফিরে এসে আবারও সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে। Muhammad Arshad Rana নামের একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, আবুল কালাম মজুমদার নিজেকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে দাবি করছেন, যা সংশ্লিষ্ট অফিসের নজরে এসেছে। এছাড়া প্রতিদিন তিনি জেলা উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে চলেছেন। বিশেষ করে ভিডিও ধারণ করে মানুষের উপরে ব্ল্যাকমেইল করার অভ্যাস তার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাসে অন্তত দুটি ঘটনার পর জনতা তাকে আটক করে মারধর ও লাঞ্ছনা করেছে। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে দৃষ্টিগোচর কোনও ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি মাটি কাটার কাজে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দাবি করছেন। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং অনুমোদনহীন পত্রিকার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের শীর্ষ…
মো: আল-মাহফুজ শাওন: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ, মসজিদ ভাঙা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ এবং প্রাণহানির ঘটনা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ খুলনায় একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা ইমাম পরিষদ গত শুক্রবার শহরের ডাকবাংলা মোড়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। জুমার নামাজের পর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মভীরু মুসল্লিরা, আলেম, ছাত্র ও যুবকসহ সকল ধরনের মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশস্থলে জমা হতে থাকে। কিছু সময় পরে ডাকবাংলা মোড় অঞ্চলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এরপর একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান রাস্তা প্রদক্ষিণ করে আবার সমাবেশস্থলে ফিরে আসে। বক্তারা সমাবেশে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। তারা বলেন, মসজিদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলো মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। বক্তাদের মতে, নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো সাম্প্রদায়িক মনোভাব ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষ হত্যা, নির্যাতন এবং সম্পদের ধ্বংস সভ্য সমাজে কখনো মেনে নেওয়া যায় না। বক্তারা হামলার ঘটনা বন্ধ, দায়ীদের শাস্তি এবং সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সমাবেশে উপস্থিত লোকজন বলেন, “আমরা ধর্মীয় বিভেদ ভুলে মানবতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রতিটি সচেতন মানুষের দায়িত্ব।” এ সময় সমাবেশস্থল বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পরিচালনা করেন। আয়োজকরা জানান, মানবতা, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় এই ধরনের প্রতিবাদী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।
মো: আল-মাহফুজ শাওন: আজ সুন্দরবনের মানুষদের মনে গভীর দুঃখ বিরাজ করছে নিরীহ সাধারণের আর্তনাদে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামেন পরিবারের জন্য খাবার যোগাতে , তারাই বর্তমানে দস্যুদের বশবর্তী হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের নদী ও খালের অঞ্চলে ২২ জন জেলের অপহরণ ঘটায় পুরো উপকূলজনিত অঞ্চলে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে। অপহৃত জেলেদের পরিবারের মধ্যে এখন শিক্ষামূলক উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে আগুন জ্বলছে না দিনের পর দিন। সন্তানদের ঘুম নেই, মায়েদের বুকফাটা কান্নায় এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। উপকূলের মানুষেরা জানতে চাইছেন—একটি স্বাধীন দেশে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নিরাপত্তা নেই কেন? ২০১৮ সালে সরকারিভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে অনেক দস্যু আত্মসমর্পণ করে এবং বনাঞ্চলে শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্বস্তি যেন আবারও ভেঙে পড়ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন এবং পুরনো দস্যু বাহিনীর কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার তথ্য রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে সুন্দরবনে আনুমানিক ১৬টি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে করিম-শরীফ বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, আলিফ বাহিনী, বুড়ো জাহাঙ্গীর বাহিনী, সবুজ-জাহাঙ্গীর বাহিনী, আল-আমীন বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, জনাব বাহিনী এবং আসाबুর গ্রুপের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। দস্যুরা গহিন বনাঞ্চল ও নদী পথকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। সুযোগ বুঝে তারা জেলেদের নৌকা ও…
মো: আল-মাহফুজ শাওন: খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সাংবাদিক আতিয়ার পারভেজ খুলনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি খুলনা জেলা প্রশাসনের অফিস থেকে এক নির্দেশ জারি হয়, যেখানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। এর অংশ হিসেবে সাংবাদিক আতিয়ার পারভেজকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও সংগঠনমূলক কাজের কারণে তিনি এই দায়িত্ব সতর্কতার সঙ্গে এবং সফলভাবে পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশাবাদী। পাশাপাশি জেলার সাংবাদিকদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারিত সহায়ক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও সহকর্মীরা আতিয়ার পারভেজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সফলতা কামনা করেছেন।
