তিশা–অথইয়ের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল

তিশা–অথইয়ের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল

হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী সামিয়া অথই অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জে পুতুলের বিয়ে নামের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তাঁকে চড় মেরেছেন তানজিন তিশা। লাইভে সামিয়া অথই বলেন, ‘তিনি (তিশা) সিনের মধ্যেই আমাকে মেরেছেন, মেরে গাল ফুলিয়ে দিয়েছেন। আমার চোখ ফুলে গেছে।’

তবে তানজিন তিশার দাবি, চরিত্রের প্রয়োজনেই চড়টি মেরেছেন তিনি। এর পর থেকেই এই চড়কাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় চলছে।

শুটিং সেটে দুজনের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল, জানতে অভিযোগকারী সামিয়া অথই, অভিযুক্ত তানজিন তিশা এবং নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হয় পুতুলের বিয়ের শুটিং। শুরুতে সামিয়া অথই, মীর রাব্বীসহ আরও কয়েকজন শিল্পীর দৃশ্য ধারণ করেন পরিচালক। বেলা তিনটার দিকে ছিল তানজিন তিশা ও সামিয়া অথইয়ের দৃশ্য।

সামিয়া অথইয়ের দাবি, চিত্রনাট্য অনুযায়ী দৃশ্যটিতে তিশাকে তাঁর একটি চড় মারার কথা ছিল, সে মতোই তিনি চড়টি মেরেছেন। এরপর তিশা তাঁকে একাধিক চড় মেরেছেন। চিত্রনাট্যে তিশার চড় মারার কথা ছিল না।

চিত্রনাট্যে কী ছিল, জানতে চাইলে রাফাত মজুমদার প্রথম আলোকে জানান, চিত্রনাট্যে ছিল, তানজিন তিশাকে চড় মারবেন অথই। তবে ফাইনাল রিহার্সালে চড়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। চড়ের বদলে অথইয়ের বকা দেওয়ার কথা ছিল। চিত্রনাট্যে অথইকেও তিশার চড় মারার কথা ছিল না। পরিচালকের ভাষ্য, অথইয়ের বকা খেয়ে তিশার রিঅ্যাকশন দেখানোর কথা ছিল। অথইকে ধাক্কা মারার কথা ছিল। তবে অথই যেহেতু তিশাকে চড় মেরেছেন, ফলে তিশাও অথইকে চড় মেরেছেন।

বিষয়টি অবহিত করা হলে সামিয়া অথই দাবি করেন, চড়টি বাদ দেওয়া হয়নি। বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক রাফাত মজুমদার সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, দুজনের আলাদা রিহার্সালের সময় কোনো চড় ছিল না।
তানজিন তিশার সঙ্গে দৃশ্যটির কোনো রিহার্সালও হয়নি জানিয়ে অথই বলেন, ‘দৃশ্যটিতে ছিল, আমি তাকে আলতো করে চড় মারব। পরে সে চলে যাবে। তার চড় মারার কথা ছিল না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে জানান, সামিয়া অথই একটি চড় মারার পর তাঁকে বেশ কয়েকটি চড় মেরেছেন তানজিন তিশা।

তবে তানজিন তিশার দাবি, তিনি চরিত্রের বাইরে কিছু করেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করেছি; এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যতটুকু স্ক্রিপ্টে আছে, ততটুকু করেছি। চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি।’

চিত্রনাট্য অনুযায়ী তিশার চড় মারার কথা ছিল না। তবুও কেন চড় মেরেছেন? জানতে গতকাল বুধবার বিকেলে তিশাকে ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই শুটিং সেট ত্যাগ করেন সামিয়া অথই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা গ্রামে গিয়ে শুটিং করেছি। আরও ক্ষতি করতে পারত। আমি তো ভয়ে চলে এসেছি। সেফটি ইস্যুর জন্য চলে এসেছি।’ পরে আর সেটে ফেরেননি অথই। পরিচালক রাফাত মজুমদার জানান, বিষয়টি সেটেই মীমাংসা করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা, তবে হয়নি।

সামিয়া অথইয়ের ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি লিখেছে, ‘কোনো সদস্যের সঙ্গে কোনো প্রকার জটিলতা বা মতভেদ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে তা অবহিত না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের আচরণবিধির পরিপন্থী।’ বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো বিষয় সাংগঠনিকভাবে সুরাহা হওয়া উচিত। পরিচালক রাফাত মজুমদারও মনে করেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সুরাহা হলে ভালো।

গতকাল দুপুরে সামিয়া অথই জানান, তিনি আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *