সৌরভ দত্ত: দুটি ম্যাচে হেরে তুরস্ক গ্রুপের তলানীতে অবস্থান করছে। একই দিনে আমেরিকা ২-০ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে পরবর্তী পর্বে চলে গেছে। দুটির ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে রয়েছে এর পর। এখন প্রত্যেক গ্রুপ থেকে তিনটি দলের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রুপের সেরা দুটি দল অবশ্যই যাবে।
১২টি গ্রুপের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় সেরা ছয়টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও পরবর্তী পর্বে যাবে। কিন্তু তুরস্কের পয়েন্ট হলো শূন্য। শেষ ম্যাচে আমেরিকাকে হারালে তুরস্কের পয়েন্ট হবে ৩। তবে তারা বর্তমানে তিন পয়েন্টে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে হারে গেছে। ফলে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
এর ফলে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তারা তৃতীয় স্থানে শেষ করতে সক্ষম হবে না।টুর্নামেন্টের শুরুতে ৯ দিন পর তুরস্ক বিদায় নিল।
বিশ্বকাপে নতুন একটি নিয়ম চালু হলো। মুখ ঢেকে কথা বলায় প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হলো। এরপরও তাদের কাছে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় ছিল, কিন্তু আর্দা গুলাররা কোন সুবিধা নিতে পারেননি। ম্যাচের ৬৫ সেকেন্ড পর প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন মাতিয়াস গালার্জা। ম্যাচটি হারিয়ে তুরস্ক এবারের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। এর আগে হাইতি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছিল।
সান ফ্রান্সিসকোতে গ্রুপ ‘ডি’তে জীবন-মরণ ম্যাচে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারার ফলে তাদের এই ম্যাচ জিততেই হতো। আর্দা গুলার, কেনান ইয়ালদিজ, হাকান জালানগলুর মতো খেলোয়াড়রা ইউরোপের বিভিন্ন বড় দলের হয়ে খেলেন। কিন্তু ৬৫ সেকেন্ডের মধ্যে গালার্জা প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। বক্সের ঠিক সামনে থেকে তিনি মাটির পাশাপাশি দূরের শটে গোল করেন। এটি এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম গোল ছিল। সেদিন সকালেই মরক্কো ১-০ গোলে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করেছে। সেখানে ৭১ সেকেন্ডে গোল করেছেন ইসমায়েল সাইবাড়ি।
কিন্তু নাটকটা ঘটেছিল প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। একটি ক্ষুদ্র ঘটনার মাধ্যমে এটি শুরু হয়। তুরস্কের এক খেলোয়াড়ের সাথে আলমিরনের বাকবিতণ্ডা চলছিল। হঠাৎ তিনি মুখ ঢেকে কিছু বলেন। এবার বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। যেখানে বলা হয়েছে, মুখ ঢেকে কথাই বললেই লাল কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকার বিরুদ্ধে এক ম্যাচে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে ভিনিসিয়াসকে কিছু বলেছিল। ভিনির দাবি ছিল যে, তার উদ্দেশ্যে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়। প্রেস্তিয়ানি সেই জন্য শাস্তিও পান। পরবর্তীতে ফিফা এই নতুন নিয়ম চালু করে।
সেই নিয়ম অনুযায়ী প্রথম লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় হলেন আলমিরন। তিনি মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তুরস্ক ধারাবাহিক আক্রমণে এগোতে থাকে। কিন্তু তারা কোন গোল করতে সক্ষম হয় না। ম্যাচের অন্তিম সময়ের মুহূর্তে মেরিহ ডেমিরালের হেড কিছুটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিদায়ের অর্থ বুঝতে পেরে তিনি কাঁদতে থাকেন। খেলার শেষ বাঁশি বেজে গেলে তুরস্কের খেলোয়াড়রা হতাশায় ভেঙে পড়ে।

