মালিকুজ্জামান কাকা:
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে। একটি খাল মাটি দিয়ে পূর্ণ হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।এর ফলে স্থানীয় কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বুড়োর খালের ব্রিজ থেকে কালাবাঘা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির কারণে এখন কৃষকরা বিপদে পড়েছে। মাটি দিয়ে ভরাট ওই খাল পুনরায় খননের জন্য এলাকার মানুষদের দাবি রয়েছে।
মাহিদিয়া, রূপদিয়া, ভাতুড়িয়া, বর্মনপাড়া, তফসিডাঙ্গা, বেড়বাড়ি, জিয়ার খাল মাঠ, চাঁচড়া, তফসীডাঙ্গা বেরেঘাটা এবং বেড়বাড়ির গ্রামগুলি থেকে পানির নিষ্কাশন ওই খালটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমিতে তিন ফসলের উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত ভূমি খালের আশেপাশে রয়েছে।
কিছু অগুরুত্বপূর্ণ ঘেরের পানির সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। এখনও কালাবাঘায় ঘের কার্যক্রম চলছে।
পানি একটি জায়গায় আটকে গেলে সামান্য বৃষ্টি হলেই কৃষি এবং আবাসিক এলাকা ডুবে যায়। মুক্তশ্যরী নদীর সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে। সখিনা মেডিকেল কলেজের দক্ষিণে এটি পাওয়া গেছে। খালটি জিয়া খালের সঙ্গে বর্মনপাড়ায় মিশেছে। জিয়া খালে যুক্ত হলেও খাল খনন করা না হওয়ায় সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাহিদিয়ার সাহেব আলী, নূর হোসেন, সাইফুল, সাহাবুদ্দিন, আজিজ মিস্ত্রী, আমিনুর, জাফর সেখ, মোসারেফ, ইসমাইল, বদর, মিজান ডাক্তার, ইজাহার আলী খা, সেলিম, পিরো, মনিরুল, আমিনুর ২, সাদেক আলী, আনোয়ার হোসেন, লুৎফর সেখ, সামাদ, ওমর আলী মিস্ত্রী, শাহীন, ডাক্তার সাবু, লাবু, আসাদুর, আবু হাসান, সাদেক ২, হুসাইন, আল রাজী, আবু নাছোর, বদর, ইসমাইল, সোহাগ, কুদ্দুস, হারুন মিন্টু, সোবহান মিস্ত্রী, জালাল, নূর ইসলাম খোকন, নিজাম খা, আসানুর এই জমির মালিক। তারা বর্তমানে আশঙ্কায় আছেন। তাদের উদ্বেগ বছরকালীন আবহাওয়ার কারণে বাড়ছে। ধানের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি চাষও হয় এই উর্বর জমিগুলিতে।
রূপদিয়ায় গোপাল, মনোজ, দিপঙ্কর, অরবিন্দু, আনন্দ মাস্টার, কালিদাস, হিমাংশু, পরমাংশু, রাম, অনাদি, ফেন্তূ, মহিতোষ, খোকন, সরজিৎ, রবিন, উপার এই জমিতে চাষ করছেন।
বেড়বাড়ির জাহিদ হাসানসহ কৃষকদের শত শত বিঘা জমির ফসল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত বর্ষাকালে এখানকার চাষিরা একই সমস্যার কারণে ফসল হারিয়ে ছিলেন।
মাহিদিয়াবাসী বলছেন, সামান্য পানি হলেই খাল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মূলত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই খালটি খনন করা হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।
ভাতুড়িয়া এলাকার সার ব্যবসায়ীরা রাজ্জাক, সেলিম, ফিরোজ, নুরু মহুরি, সোহাগের জমির ফসল বিপদের সম্মুখীন।
মাহিদিয়ার জমির মালিক নূর হোসেন বলেন, তিন কিলোমিটার খাল খনন করা হলে পানি চলে যাবে, যার ফলে ফসল ডুববে না। এলাকার সবাই খাল খননের পক্ষে। কৃষকরা খাল খননে সরকারের সহায়তা চান।
তারা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যেন খালটি সঠিকভাবে খনন করা হয়। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষকেরা চিন্তা মুক্ত হতে পারবেন।

