মালিকুজ্জামান কাকা:
যশোর রেলগেট পশ্চিম পাড়ার আসামিরা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আদালতে জামিন লাভ করেছেন। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত কোতোয়ালী যশোর এই জামিন প্রদান করেন। মামলার শ্রেণীবিভাগ নম্বর সি আর ১৯০৪/২৫।
মামলার বাদীর নাম আবুল বাসার, যিনি মৃত সইজউদ্দিনের ছেলে। আসামির সংখ্যা সাত, এবং এদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, হোসেন গুলিয়ার স্ত্রী কুলসুম বেগম, মৃত কেফাতুল্লার ছেলে হোসেন বাবুয়া, হোসেন গুলিয়ার ছেলে আবিদ হোসেন ও আরিফ হোসেন, মৃত বিচু মিয়ার ছেলে হোসেন গুলিয়া, মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রেল বাবু।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল যশোর উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার তারিখ হিসেবে ১লা মে/২৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সাক্ষী হিসেবে নাম আছে একই এলাকার মৃত ওয়ালী মোহাম্মদের ছেলে লাল বাবু, আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুস সামাদ, খড়কির আব্দুল বারির ছেলে কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী সর্দারের ছেলে আব্দুর রব ও শাহিনের ছেলে আব্দুল্লা।
মামলাটি পরিচালনাকারী কর্মকর্তা হলেন কোতোয়ালী থানার এস আই (নিরস্ত্র) শেখ সাইফুল ইসলাম (বিপি ৭৮৯৮০০৫৬৫৯)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে আসামিরা পরস্পরভাবে বাদীর নালিশী সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছে এবং নিজেদের কাছে রেখেছে, যা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এর ৪(১), (ক)(খ)(ঙ)(চ)/৫(১)(ক)(খ)/৮এর (ক)/১০/১৬ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তদন্ত চলাকালে নালিশী অভিযোগে উল্লেখিত অভিযুক্ত হোসেন বাবুয়া সম্পর্কে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারী উল্লেখ করেছেন যে আব্দুর রাজ্জাক ও রেল বাবুর সহায়তায় আসামিরা জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। তবে তদন্তের সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, যশোর কোতোয়ালী থানার অধীন ৭৭নং চাঁচড়া মৌজা এসএ ৬৬৭ খতিয়ান এসএ ৫৪১ অঞ্চলে ওয়ালী মোহাম্মদ ২২ শতক জমির মালিক। তবে তিনি যে কোনো দলিলে জমিটি ক্রয় করেছেন, তার জন্য নন্বর বা তারিখ উল্লেখ নেই। বরং ইতোমধ্যে ঐ দলিল বাতিলের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, মামলায় উল্লেখিত জমি আবুল বাসার গঙের অবৈধ দখলে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আবুল বাসার গঙ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দাবি তুলছে।
পত্রপত্রিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এডিসি (রাজস্ব) সাতটি নাম পত্তন বাতিল করেছে। সি আর ১১৩৯/২৩, সিআর ১৪২৯/২২, সিআর ১৫১৪/২৩, সিআর ১১৯৯/২৩, সিআর ১০৫০/২৩, সিআর ১১২০/২৩, সিআর ১৯৫৫/২৩।
এ জমিগুলো আবুল বাসার, তার স্ত্রী মুন্নি, শালি রোজিনা, গুলশানারা, স্যালক আব্দুস সালাম, লাল বাবু ও ইসলামের দখলে রয়েছে। সকলেই ভূমি আইন অনুযায়ী অপরাধে লিপ্ত। তারা কখনো অন্যের জমি ওয়ারিস হিসেবে আবার কখনো ক্রয় দাবি করছে। তবে তাদের আইনি ভিত্তি যথেষ্ট দুর্বল।
আব্দুর রাজ্জাক মন্তব্য করেন, আবুল বাসার গঙ বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক দাগের জমি দখলে রেখেছে। তাদের দখল নিশ্চিত করার জন্য একের পর এক মামলা চলছে। এই চক্র পৌরসভার রাস্তা ও পানির কলও নিজেদের দখলে রেখেছে। অভিযোগ জানিয়েও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রাস্তা উদ্ধার হয়নি। এমনকি সাবেক ব্যবস্থাপক নূর উদ্দিনের জমিও তাদের দখলে। কেফায়েতের ক্রয়সূত্রের জমি দখলের চেষ্টায় তারা সক্রিয় রয়েছে।

