কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়নে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে আটক দুই

কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়নে যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে আটক দুই

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৮ নম্বর মারিয়া ইউনিয়নে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় একটি অনন্য ও সফল অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের নেতৃত্ব দেয় কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ, যেখানে স্থানীয় জনতা, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ছিল অংশগ্রহণকারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি এবং ব্যবহার সম্পর্কিত অভিযোগ উঠেছিল। এই কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পুলিশ এবং জনগণের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। এ সময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কয়েকটি বাড়িতে খোঁজা চালানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

অভিযানের সময় স্থানীয় জনগণ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। জানা গেছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ সময় ৮ নম্বর মারিয়া ইউনিয়নের বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল।

বক্তারা জানান, মাদক কেবল একজনকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই, রাজনৈতিক পরিচয় থেকে বিরত থেকে সবাইকে একসাথে কাজ করার প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য হলো, পুলিশের সাথে জনগণের এমন সমন্বিত প্রচেষ্টা এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা আশা করছেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে এবং যুব সমাজ মাদক থেকে রক্ষা পাবে।

অভিযানের শেষে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, “মাদকবিরোধী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যদি তথ্য দিয়ে সাহায্য করে, তাহলে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গঠনে পুলিশ ও জনগণের সক্রিয় প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য। আজকের এই যৌথ অভিযান সেই সচেতনতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।”

তিনি আরও জানান, মাদক, সন্ত্রাস এবং অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সহযোগিতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযানের খবর শর্তি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশান্তি ফিরিয়ে এনেছে। সচেতন মহল মনে করে, পুলিশ এবং জনগণের যৌথ উদ্যোগ ক্রমবর্ধমান ভাবে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।