নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ধনতোল বাজারে সাইদুল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম বাদীর স্ত্রী। ঘটনার সময়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে বাদী গঙ্গাচড়া থানার ধনতোলা বাজারে তার চায়ের দোকানে ব্যবসা করছিলেন। ভিকটিম তখন তার বাড়িতে শুয়ে ছিল, যখন অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান অজ্ঞাতভাবে ভিকটিমের বাড়িতে প্রবেশ করে, ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়।
পরে, একপর্যায়ে ভিকটিমের পোশাক ছিঁড়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ভিকটিম কোনক্রমে আসামির হাত সরিয়ে চিৎকার দিলে বাদীর পরিবারের সদস্য সহ প্রতিবেশীরা ভিকটিমের বাড়িতে এসে হাবিবুরকে হাতেনাতে আটক করে একটি ঘরে বন্ধ করে রাখে। ঘটনাটি দ্রুত স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে, আসামির পিতা-মাতা এবং অজ্ঞাত কিছু লোক বাদীর বাড়িতে এসে বাদীর পরিবারকে নিয়ে বিতর্ক শুরু করে।
এক মুহূর্তে, আসামির পরিবার বাদীকে মারধর করে তার ঘরের দরজা ভেঙে আসামি হাবিবুরকে ঘটনা স্থান থেকে নিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে, ভিকটিমের স্বামী মোঃ সাইদুল ইসলাম গঙ্গাচড়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(ক)(১) এবং পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৫০৬/১০৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২১। ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল। ঘটনার গুরুত্বের কারণে, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব তদন্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা শুরু করে।
এই প্রেক্ষিতে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুরের একটি অভিযানিক দল মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ২ টা ১০ মিনিটের সময় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার ধনতোলা বাজারের কলাবাড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বেতগাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাবিবুর রহমান (২৫), পিতা- মোঃ নয়া মিয়া সাং- দক্ষিণ বেতগাড়ী, কলাবাড়ী, থানা- গংগাচড়া, জেলা-রংপুর’ কে গ্রেফতার করে। আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, এই ধরনের অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সব অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের সদস্যদের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
