৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে মিলছে না পুশইনের সমাধান

৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে মিলছে না পুশইনের সমাধান

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দ্বারা পুশইনের শিকার হওয়া ১১ জনের ভাগ্য এখনও অন্ধকারে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও পতাকা বৈঠকের পরেও কোনো ফলপ্রসু সমাধান পাওয়া যায়নি। এর ফলে সীমান্তে উত্তেজনা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার (৭ জুন) বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা হয়ে গেলেও, দুবার পতাকা বৈঠক হওয়ার পরও কোনো সমাধান আসেনি, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক ও মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিটের সময় বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নিতে বাধ্য হন। তারপর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী ৯ মাসের গর্ভবতী এবং একজন শিশু প্রতিবন্ধী। ভয়াবহ রোদ, বৃষ্টির মধ্যে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের প্রতিদিন কাটাতে হচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে জানায়, সে তার বাবা-মায়ের সাথে ভারতের কলকাতায় ছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পরে প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর, অবশেষে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নিয়ে আসে। দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এখন সে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সীমান্তে অবস্থিত নারীরা, শিশুরা ও বৃদ্ধরা দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছেন। মানবিক কারণে আশেপাশের গ্রামবাসীরা তাদের শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা তাদের চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার কারণে শিশুদের মধ্যে ভীতির পাশাপাশি অসুস্থতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনার জন্য সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা না জানিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের জোর করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে দাবি করছেন।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, ‘বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে প্রতিবাদ করা হয়েছে। আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে যথাযথ প্রমাণের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে আমরা তাদের গ্রহণ করব। তবে, কোনো প্রকার অবৈধ পুশইন আমরা নেবো না।’

এদিকে, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু এবং অসহায় মানুষের মানবিক অবস্থার ওপর উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধুমাত্র সীমান্তের নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। তারা দাবি করছেন দ্রুত কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা নিশ্চিত করতে হবে।