রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
‘আবিষ্কারের মাধ্যমে অদৃশ্যর সন্ধান করা, ছিলোদেরকে সহায়তা করা’ এই থিমকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাহক শনাক্তকরণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।
তরুণদের মধ্যে এই বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে দিনব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২২ মে বৃহস্পতিবার, ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর এলাকায় ইএসডিও’র মূল কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। এই বিষয়ে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি (বিটিএস) সহযোগিতা করেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নানা পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে বলা হয়, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তজনিত রোগ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়ায়। সাধারাণত, দুইজন বাহকের মধ্যে বিয়া হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে, যথাসময়ে পরীক্ষা এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই ঝুঁকিটি নিরসন করা সম্ভব।
বক্তাররা আরও জানান, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে। যদি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়, তবে ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা থ্যালাসেমিয়া, রক্তস্বল্পতা এবং অন্যান্য রক্তজনিত রোগ সম্পর্কিত বিশেসজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। চিকিৎসকরা তাদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার পক্ষে তথ্য প্রদান করেন।
এ সময়ে उपस्थित ছিলেন, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এম এ খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাফরুহা আক্তার, জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসিব মোহাম্মদ ইরশাদুল্লাহ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির নির্বাহী পরিচালক ডা. এ কে এম একরামুল হোসেন।
এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইকো পাঠশালা অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. সেলিমা আখতার, প্রভাষক আলী আকবর বাবুসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাফরুহা আক্তার বলেন, দেশে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সচেতনতা এখনো গড়ে ওঠেনি। অনেকের ধারনা নেই যে তারা এই রোগের বাহক। ফলে তারা অজান্তেই দুই জন বাহকের মধ্যে বিয়ে করে এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু জন্ম নিচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া একটি সংক্রামক রোগ নয়, এটি পুরোপুরি বংশগত। তাই, যথাসময়ে পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই রোগ প্রতিরোধের অন্য কোন উপায় নেই।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অভীষ্ট থাকা প্রয়োজন। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে তরুণদের মধ্যে এই বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সময়ে পরিবারগুলো সচেতন হন, তা হলে ভবিষ্যতের প্রজন্মকে এই জটিল রোগের ঝুঁকির সাথে তুলনামূলক সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে পূর্বে অনেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখতেন না। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা প্রথমবারের মতো জানতে পারেন যে থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ, এবং অজ্ঞতার কারণে অনেক মানুষ অজান্তেই এর বাহক হয়ে যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য ও পরামর্শ পেয়ে তারা এই বিষয় সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়েছেন।
তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র বইয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এ ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আয়োজন তরুণদের বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা কতটা জরুরি, সেটি তারা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।
