মোঃ আলমগীর হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার:
নওগাঁর এক পরিবারে চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সাধারণত ডাকাতরা দ্রুত লুটপাট শেষে চলে যায় এবং শিশুদের এভাবে হত্যা করার ঘটনাও বিরল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ১২ বিঘা জমি হাবিবুর রহমানের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। জমির দখল নিয়ে বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ছয়জন এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে হাবিবুর রহমানের এক ভাগ্নে ও এক ভগ্নিপতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করছেন, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ থেকেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন দুজনের বাড়িতে আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)-কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
