শাহাদাত হোসেন রাসেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সম্পত্তির বিরোধ ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিসি বৈঠকে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চরপার্বতী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সালিশদারসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ই সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী জাবেদ হোসেন বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সফিকুল ইসলামের দোকানে সালিশ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন চরপার্বতী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আইয়ুব নবী বাবুল, সালিশদার জসিম উদ্দিন, শহিদ উল্যাহ, আবুল কাশেম ও সফিকুল ইসলাম। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরপার্বতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলাবক্স মিস্ত্রি বাড়ির বাসিন্দা জাবেদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই এলাকার ফরহাদ হোসেন তার মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন জাবেদ।
জাবেদ হোসেনের দাবি, বসতঘর মেরামতের সময় ফরহাদ হোসেন কাজ বন্ধ করে দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় গত ১৫ আগস্ট ভোরে তার বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এতে ভবনের সামনের অংশ, দরজা, বারান্দা ও টাইলসসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচার টয়লেট ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে ফরহাদ হোসেন উত্তেজিত হয়ে সালিশদার সফিকুল ইসলামের হাত থেকে প্রতিবেদনটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর সালিশদার আইয়ুব নবী বাবুল, জসিম উদ্দিন, শহিদ উল্যাহ, আবুল কাশেম ও সফিকুল ইসলামের ওপর কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারার অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে বিএনপি নেতা ও সালিশদারসহ পাঁচজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি প্রবাসী জাবেদের ঘরের সামনের যে অংশ নিজের জায়গা বলে দাবি করেন, সেটি ভেঙে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

