মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা বাসস্টেশনের নিউ জামাল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাংক, শোরুম, হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে।
আগুনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কেটের মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ও হিসাব-নিকাশের পর জানা যাবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ জামাল মার্কেটের ছেহের মিয়ার রং ও হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকান থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো মালামালই সরানো সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে যোগ দেয়। দুই ইউনিটের সদস্যরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন।
আগুনে মালেক সওদাগরের ওয়ালটন ও ভিশনের দুটি শোরুম, গ্রামীণ ব্যাংক, ছেহের মিয়ার রং ও হার্ডওয়্যারের দোকান, জাবেরের দোকান, মোহাম্মদ আলমের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু বক্কর আল মাসুদ এবং স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু জানান, আগুনে ১০ থেকে ১৫টি দোকানের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো মালামালই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।নিউ জামাল মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জামাল হোসাইন বলেন, ‘মার্কেটের সব দোকান মালিক এবং ওয়ালটন-ভিশনের শোরুম মিলিয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছেহের মিয়ার রঙের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। আগুনের সূত্রপাতের কারণ ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’রাত ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং কোনো স্থানে আগুনের অবশিষ্ট স্ফুলিঙ্গ রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আগুন নেভানোর সময় আহত বা দুর্বল হয়ে পড়েন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবি ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মাঝামাঝি এলাকায় দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের কাছে এ দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং টেকনাফ উপজেলার জনবহুল ও বিস্তৃত দুটি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কাছাকাছি স্থানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে সময় লাগে। এতে আগুনের প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি সুবিধাজনক স্থানে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যাবে।
তাদের দাবি, শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়—দুর্ঘটনা, দুর্যোগসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মাঝামাঝি এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এখন সময়ের দাবি।

