উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ১০ নং ভীমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজার খোদ্দনারায়নপুর পালপাড়া, ঋষিপারা, লক্ষ্মীপুর ভূইয়াপাড়া রসুলপুর পাহানপাড়া, গনেশপুর পাঁচপাড়া গ্রামের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ!
খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়ার শ্রী মুকুন্দ ঋষির ছেলে, শ্রী গজেন্দ্র ঋষি (৬৫)
সৎকারে বাধা দেওয়ার কারণে বৈষ্ণবপুর মড়াপুকুর ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশানে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শ্রী গজেন্দ্র ঋষি উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়া গ্রামের মৃত শ্রী মুকুন্দর ছেলে শ্রী গণেশ ঋষি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আসলেই তদন্ত করার প্রয়োজন বলে মনে করেন পাঁচগ্রামের এলাকাবাসী।
৫ আগস্ট বুধবার সকাল ১০ টার কিছু আগে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় ১০ নং ভীমপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৪ টার দিকে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান গজেন ঋষি।
মৃত গজেন ঋষির ছেলে — সন্তোষ ঋষি বলেন, আমার বাবা রাত ৪ টার দিকে মারা যান। বুধবার সকাল ১০ টার কিছু পরে পরিবারের সদস্য ও খোদ্দনারায়নপুর ঋষিপাড়ার সনাতন ধর্মালম্বীরা লাশ সৎকারের জন্য বৈষ্ণবপুর মরা পোকরা মহাশ্মাশানে নিয়ে গেলে শ্মশানের চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরোধ করেন।
মৃত দবিরউদ্দিন (দেনেবেনের) জামাই মোঃ আব্দুল খালেক ও মোঃ নাইম এবং মোছাঃ শেফালী বেগম মৃত গজেনের লাশের সৎকারে বাধা দেন, কাছে গেলে তারা নানা অজুহাত দিয়ে সৎকারের কাজে বাধা দেন।
এই লাশ নিয়ে পাঁচগ্রামের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ১২ টার দিকে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান শ্রীরামপ্রসাদ ভদ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য শ্রী দয়াল চন্দ্র পালো ও বিপুল সদস্য সেখানে উপস্থিত হন, ভীমপুর ইউনিয়ন বিএমপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, ভীমপুর ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি ও জেলা দলের সদস্য মোঃ আব্দুল মজিদ, কৃষক দলের সভাপতি মোঃ উজ্জ্বল হোসেন সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে বৈকন্ঠপুর মড়াপকড়া ২০০ বছরের শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার করে পুনরায় লাশ সৎকার করা হয়।
রসুলপুর মহল্লার কান্চু পahan বলেন, দীর্ঘকাল ধরে এই শ্মশানটি ছিল। সেখানে আমাদের উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকারে ব্যবহার করা হত। কিন্তু প্রায় ২০০ বছর আগে এই শ্মশানটি বৈকন্ঠপুর মরা পোকরা শ্মশান হিসেবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, মড়াপকড়া মহাশ্মশানের নাম দিয়ে উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকারের সুযোগ দিতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেক গ্রাম থেকে একজন করে লোক নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার কথা জানান তারা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা বলেন, মড়াপকরা মহাশ্মশানের দেখাশুনার জন্য কোনো লোক নেই। সকালে মৃত গজেন ঋষির ছেলেরা শ্মশানটি নিয়ে বলেন যে সেখানে শ্মশান নেই- সেই কারণে তাদের দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যে শ্মশানের প্রতিবাদ করা হয়েছে, এ কথা শুনে মৃত গজেনের ছেলেরা লাশ নিয়ে সামনে বিক্ষোভ করেন। বর্তমানে শ্মশানের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দিয়ে লাশ শ্মশানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সৎকার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের আগে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে জমা হয়েছে। বর্তমানে হিন্দু শ্মশান নামকরণের দাবিতে বিরোধ চলছে।

