সৌরভ সোহরাব, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
কয়েক দিনের তীব্র বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলে নতুন জল প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এর ফলে জলাশয়গুলোতে দেশি ছোট মাছের উপস্থিতি হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চলনবিল অঞ্চলের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এখন ছোট মাছের প্রচুর সরবরাহ দেখা যাচ্ছে।
দুদিন ধরে স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছে, তাদের জালে প্রচুর দেশি জাতের ছোট মাছ ধরা পড়ছে। সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের প্রাতঃকালীন মাছের বাজারে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমি জেলে তাদের জালে ধরা টেংরা, পুঁটি, কৈ, শোল, শিং, গুচিসহ বহুবিধ ছোট মাছ বিক্রি করতে এসেছেন।
মাছ বিক্রির জন্য আসা চকসিংড়া গ্রামের জেলে মালেক সরদার বলেন, “কয়েক দিন ধরে বিলে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন পানিতে মাছ বেশি সক্রিয় রয়েছে। তবে জাল ফেলার সাথে সাথে ডিমওয়ালা ছোট মাছও উঠে আসছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রবীণ জেলে আক্ষেপ করে জানান, বর্তমানে যারা মাছ ধরছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’ ব্যবহার করছেন। এই জাল দিয়ে বিপুল পরিমাণ বোয়াল ও অন্যান্য মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করবে।
এদিকে মাছের সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে মাছ কিনতে আসা জয়নাল আবেদীন নামে এক শিক্ষক জানান, “মাছের আমদানি অনেক হলেও দাম কিন্তু খুব বেশি। তবে যাই হোক, নতুন পানির মাছের কথা মুখ্য! স্বাদ মুখরিত, তাই দাম একটু বেশ হলেও কিনতে বাধ্য হচ্ছি।”
মাছ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্তমান বাজারে:
মাঝারি আকারের চিংড়ি ৮০০ টাকা কেজি, ছোট গুচি ৬০০ টাকা কেজি, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা কেজি, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, চান্দা মাছ ২০০ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শোল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সিংড়া বাসস্ট্যান্ড নয়, মাছের সরবরাহ বেড়েছে উপজেলার চলনবিল অঞ্চলের ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ এবং জামতলীর সাপ্তাহিক বাজারে। তাছাড়া মাছের সরবরাহ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাহিয়া ব্রিজের নিকট একটি অস্থায়ী মাছ বিপণন বাজার (আড়ৎ) গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি বিক্রির ধরপাকড় অব্যাহত থাকে।
ডাহিয়া ব্রিজের পাশাপাশি একই ইউনিয়নের পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকায়ও অস্থায়ী পাইকারি ও খুচরা বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজারে প্রতিদিন সকালে কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে এবং ট্রাক ও পিকআপের মাধ্যমে এই মাছ ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে সরবরাহ হচ্ছে।
‘চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার’ সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো: আব্দুর রশিদ জানান, নতুন পানিতে মাছের এই বৃদ্ধি সত্যিই চলনবিলে প্রাণ সঞ্চার করেছে, তবে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছের সুরক্ষার জন্য প্রশাসনিক পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

