Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

হাওরে ফসল রক্ষায় সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলেও আছে টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

হাওরে ফসল রক্ষায় সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলেও আছে টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

মোঃ নোমান হাসান খাঁন, স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ফসল রক্ষা প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তাদের দাবি, যেখানে মাটির কাজের জন্য ব্যয় হওয়ার কথা প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার টাকা, সেখানে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-র সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্থ বণ্টনের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও এই সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, বৈশাখের শুরুতেই টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার একর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা শুধু পাহাড়ি ঢলের পানি ঠেকানোর জন্য; বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

২০১৭ সালে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে পিআইসি গঠন করা হলেও এরপর থেকে বাঁধের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুনভাবে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, হাওর রক্ষা প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রে অপচয়ের খাতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, এবার একসঙ্গে একাধিক দুর্যোগের কারণে ফসলহানি হয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত এবং অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা ধান কাটতে না পারাও ক্ষতির একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বাঁধ নির্মাণে মূলত পাহাড়ি ঢল ঠেকানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বৃষ্টির পানির প্রভাব ততটা বিবেচনায় আনা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি বাঁধের নিচে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে হাওরের কৃষকদের এমন ক্ষতির মুখে বারবার পড়তে হবে।

Exit mobile version