বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কখনোই কোনো একক খেলোয়াড়কে আটকানোর জন্য আলাদা পরিকল্পনা করেন না। তার মতে, একজন ফুটবলারের জন্য পুরো দলকে সাজানো অর্থহীন। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই সিদ্ধান্তের মূল্যই যেন দিতে হলো আলজেরিয়াকে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলের পরাজয় বরণ করেছে আলজেরিয়া। ম্যাচের নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসি, যিনি একাই হ্যাটট্রিক করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এবং আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করেন নিজের ক্যারিয়ারে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেটকোভিচ স্বীকার করেন, মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যের পাশাপাশি আলজেরিয়ার নিজেদের ভুলও বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের সময় তার দলই মেসিকে পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিয়েছিল, যার ফলে গোল করা তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।
পেটকোভিচের ভাষায়, “মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে কঠিন পরিস্থিতিকেও খুব সহজ মনে করাতে পারে।”
নিজেদের রক্ষণভাগের দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন আলজেরিয়া কোচ। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দায়ী করতে চাননি, তবু স্বীকার করেছেন যে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের বারবার সহজে শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া ছিল বড় ভুল। তার মতে, এই পরাজয়ের দায় মূলত তাদের নিজেদেরই নিতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী, দল এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের চ্যালেঞ্জগুলোতে আরও ভালো করবে।
মেসির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে পেটকোভিচ বলেন, আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো পুরো দল মেসিকে ঘিরে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে মেসি অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন এবং সতীর্থদের সমর্থন তাকে আরও কার্যকর করে তোলে।
পরিসংখ্যানও মেসির আধিপত্যের সাক্ষ্য দেয়। ম্যাচে আর্জেন্টিনা মোট ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টিই ছিল মেসির পা থেকে।
এদিকে ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে ২২ জুন জর্ডান-এর মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া। এরপর ২৮ জুন তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। এখন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই পরবর্তী দুই ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করবে পেটকোভিচের দল।

