নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিনোদনের পুরোনো ঐতিহ্য পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। शनिवार বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব গ্রামে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। বিলুপ্তপ্রায় এই খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী অনেক দর্শক প্রতিযোগিতা দেখতে সেখানে হাজির হন।
আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন এলাকার আগ্রহী প্রতিযোগীরা নিবন্ধনের মাধ্যমে খেলায় অংশগ্রহণ করেন। কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মোট নয়জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত দিঘুলিয়া গ্রামের সোলমান মিয়া অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতায় কেরাবো গ্রামের নুরুল হক দ্বিতীয় এবং কলাতলী গ্রামের আলামিন তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। বিজয়ী সোলমান মিয়ার হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ২১ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে একটি মোবাইল ফোন এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে একটি ঘড়ি পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, কয়েক দশক আগে বর্ষা মৌসুমে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাতিল দৌড়, নৌকাবাইচসহ নানা ধরনের দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন ছিল নিয়মিত। তবে সময়ের সাথে শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে পানিনির্ভর এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাও হারাতে বসেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী দেওয়ান আশরাফুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান।
দেওয়ান আশরাফুল বলেন, এলাকার তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পাতিল দৌড়ের পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল ও হাডুডুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধান অতিথি মফিকুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যের খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে দেখাতে হবে। তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া আয়োজন আরও বাড়াতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে সাহায্য করে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরিতেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।