মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে পেশাগত স্বীকৃতির আওতায় ক্রীড়া ভাতা বা ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ১৫ দলীয় আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুলনা বিকেএসপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে সেখানে সরকারিভাবে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সব ধরনের দায়িত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, খেলাধুলার বিকাশে পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে দেশের ৮ বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত ৮ বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২ মে সিলেট থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে ৬৪ জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে সারাদেশের প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করেছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। চলতি জুলাই মাসে জাতীয় পর্যায়ের খেলা শেষ হবে এবং ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধনও শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা গেলে অভিভাবকরাও সন্তানদের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন। বর্তমানে অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানকে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হিসেবে দেখতে চান, কিন্তু খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন খুব কম পরিবারই দেখে। সরকারের উদ্যোগ সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাবে।
নিজের খেলোয়াড় জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎসাহ ও সুযোগ পেয়ে তিনি ফুটবলার হয়েছেন। এখন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও উন্নত জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।