আফজাল মিয়া, বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ
সিলেটের একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক এলাকা বিশ্বনাথ। গত দুই দশকের মধ্যে স্থানীয় পলিটিকসে যত বিতর্কিত ও আলোচনা উৎপন্ন ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের অন্য কোনো উপজেলায় সমান গুরুত্ব সহকারে ঘটে নি। এ কারণেই দেশ ও বিদেশের গণমাধ্যমের নজর সব সময় বিশ্বনাথের দিকে থাকে।
স্থানীয় রাজনীতিতে সর্বশেষ অবাক করা ঘটনা ঘটিয়েছেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করেছেন। তিনি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে হুমায়ূন কবিরের বলয়ে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশের পরিচিত একটি রাজনৈতিক এলাকা সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। প্রবাসীদের বসবাস করা এই অঞ্চলে গত দুই দশকে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা ঘটনা তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার রাস্তায় গুম হন বিশ্বনাথের গুণী সন্তান বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম. ইলিয়াস আলী। যিনি গুম হওয়ার আসল কারণ এখনও জানা যায়নি। তাছাড়া, রাজনৈতিক কারণে রাজপথে প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন। গত দুই দশকে এখানকার রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনায় দেশের অন্য কোন উপজেলায় এত কিছু ঘটেনি।
এজন্য দেশি ও বিদেশী মিডিয়ার নজর বিশ্বনাথের উপর রয়েছে। জনপ্রিয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সকলকে চমকে দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হন যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। এরপর তিনি অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমানে বিএনপি সরকারের সময়কালীন দায়িত্ব পালন করেছেন।
এসব সরকারের অধীনে তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসে। সবার মধ্যে ছিল প্রশ্ন, দয়াল তুমি কার? চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদারের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট না থাকলেও বিভিন্ন সরকারের সময় তিনি কারো সঙ্গেই দূরত্ব তৈরি করেননি। বরং সবার সঙ্গে তিনি সূত্রপাত করে রেখেছেন।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছেন চেয়ারম্যান দয়াল। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী অফিসে গিয়ে একান্তে সাক্ষাৎ করেছেন উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে। হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে এমন একাধিক ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এতে বিশ্বনাথের হুমায়ূন বলয়ের নেতাকর্মীরা খুশি হন।
সম্প্রতি ফেসবুকে এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে হুমায়ূন কবির ভাইয়ের কাছে যোগদান করব। আমি আগেই বিএনপির রাজনীতিতে ছিলাম। বর্তমানে বিএনপির সদস্যদের মধ্যে অনেকেই আমার সিনিয়র। কাগজ খুঁজলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমি দুটি জায়গায় পা রাখতে চাই না। এজন্য একটি দলে থাকতে চাই। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় চেয়ারম্যান দয়াল বলেন, ইনো আদা পথ মাইর করি মরমু দেখছি। এরলাগি হরিয়া যাইরামগি। তারা শান্তি থাখউক্ষা।