প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১, ২০২৬, ২:৩৮ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২৩, ২০২৬, ৩:৪৫ পি.এম.

গোপালগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য

এম টি রহমান মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কারণে গোপালগঞ্জে প্রশাসন থেকে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে জেলা সদর বা অন্যান্য উপজেলার কোথাও আওয়ামী লীগের পতাকাবাহী সভা, সমাবেশ, মিছিল বা কেক কাটার অনুষ্ঠান দেখা যায়নি।

জেলার সামগ্রিক অবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করছেন। তবে মাঠে কোন কর্মকাণ্ড না থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকেই যথেষ্ট সক্রিয়। অনেক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি, ব্যানার এবং ফটোকার্ড পোস্ট করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবার কিছু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রভাব বা উপস্থিতি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমা করতে সক্ষম হবে না।

জেলা শহর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন স্থানে টহল বাড়ানো হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে উপস্থিত রয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে ৯টা পর্যন্ত তাদেরকে সড়কে টহল দিতে দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গোপালগঞ্জসহ ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা একটি দল গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে। তবে কতজন সেনাসদস্য বা কতটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। তবে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে যে, প্রায় ২০০ সেনা সদস্য গোপালগঞ্জে উপস্থিত রয়েছেন।

প্রশাসন জানাচ্ছে, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সদস্যদের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় জড়ানোর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে।

পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সাদাপোষাকে দায়িত্ব পালন করছেন। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, জেলার পরিবেশ শান্ত এবং স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কার্যক্রম পালনের খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে। এই সময়ের মধ্যে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, ‘জেলায় কোন ধরণের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে না পারে, তাই পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং নানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের লক্ষ্য হল, জেলার সুষ্ঠু পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও সভা-সমাবেশ কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি না হওয়া। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে কোন মিছিল কিংবা সমাবেশে আয়োজন করা হয়নি। জেলা শহরের আওয়ামী লীগ অফিস বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদিও শহরে সেনাবাহিনীর কোন টহল দৃশ্যমান হয়নি। এইদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা যুবদল একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রদর্শন করে এবং গোপালগঞ্জ ডিসি অফিসের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কার্যক্রম সমাপ্ত করে। মিছিল সমাবেশের বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা যুবদলের বিপ্লবী সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, সাধারণ সম্পাদক রাসেকুজ্জামান পলাশ এবং স্থানীয় নেতারা। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের সম্ভাবনা বিবেচনায় কাশিয়ানি ও মুকসুদপুর উপজেলা থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়। তবে আটককৃতদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গোপালগঞ্জ জেলার আইন শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সাময়িক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা জনগণের মধ্যে থেকে সমাজ এবং রাষ্ট্রের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।