Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

সংগ্রহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। তবে বাংলাদেশ সরকার প্রতিটি বৈঠকে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে এবং জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুশ-ইন বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে সিলেট-৩ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো (পুশ-ইন) ২,৩৬৯ জনের মধ্যে ২,১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুনরায় সীমান্তে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ৩৬টি পুশ-ইন প্রচেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে পাবনা-৫ আসনের শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ কুমিল্লা-৯ আসনের মো. আবুল কালাম তার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে আইস বা ক্রিস্টাল মেথ আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধে কাজ চলছে।

সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১,৯৭৯ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সময়ে বিজিবি ৩ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিদেশি মদ, ক্রিস্টাল মেথ, কোকেন ও এলএসডি উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে ২,১৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

সিলেট-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন ও চোরাচালান রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

মাদক নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৩০ হাজারের বেশি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা দায়ের এবং ৯ হাজার ৬৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।

এছাড়া ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে ৮ জুন পর্যন্ত মাদকসংক্রান্ত ৭,৬৮৮টি মামলায় ১০,৮৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং বিষয়ে জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় কিশোর গ্যাং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত গোপন গ্রুপ, ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ছিনতাইবিরোধী অভিযানে সাফল্য হিসেবে তিনি জানান মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১১৯টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও সেখানে ৭৭ হাজারের বেশি বন্দী রয়েছে। যা কারাগারের নির্ধারিত সক্ষমতার প্রায় ১.৭ গুণ।

অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ পুলিশ, বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’-এর পরিবর্তে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে এবং তরুণ সমাজকে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।

Exit mobile version