ডেস্ক রিপোর্ট:
৩ মে পালিত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতীক। গণমাধ্যমকে ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হলেও সেই স্তম্ভ দুর্বল হলে গণতন্ত্রও ঝুঁকিতে পড়ে।
ইউনেস্কো ঘোষিত এই দিবস সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সত্যের সন্ধানে নির্যাতন ও ঝুঁকি মোকাবিলা করা সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল। Reporters Without Borders-এর ২০২৬ সালের সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও অর্থনৈতিক চাপ, আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তবে নানা বাধা রয়েছে। ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ প্রবণতা বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র-এর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই প্রায় ১৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানি বা হামলার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক চাপে মাঠের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
মালিকানার কাঠামোও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক গণমাধ্যম ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ অনেক সময় জনস্বার্থের বদলে স্বার্থসংশ্লিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি দেখা যায়, যা পাঠকের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের অবস্থা আরও কঠিন। স্বল্প বেতন, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব সত্ত্বেও তারাই স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জন্য আত্মসমালোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। স্বাধীনতা মানে সীমাহীনতা নয়; বরং সত্য, দায়িত্ব ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সাহসী সাংবাদিকতা গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে ভয় নয়—সত্যই হবে সাংবাদিকতার প্রধান শক্তি।

