দৈনিক নবদিগন্ত

সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি

সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি

তরুণদের ধূমপান থেকে দূরে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) National Heart Foundation of Bangladesh আয়োজিত এক কর্মশালায় এ দাবি তোলা হয়। কর্মশালার বিষয় ছিল তামাক কর বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা।

অনুষ্ঠানে Dhaka University–এর স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক Safiun Nahin Shimul মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক Sheikh Momina Moni, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান Md. Mostafizur Rahman এবং National Heart Foundation Hospital and Research Institute–এর অধ্যাপক Dr. Sohel Reza Choudhury

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বহুস্তর বিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং এটি তামাক ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশেষ করে কম দামের সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি উচ্চ স্তরের জন্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের জন্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের কথাও বলা হয়েছে।

অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে সরে গিয়ে ধূমপান চালিয়ে যাচ্ছেন। দাম বাড়ানো হলে নতুন করে ধূমপান শুরু করার প্রবণতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সমাপনী বক্তব্যে ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বহু অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া কর্মশালায় তামাকজাত পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. অরুনা সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক এজাজ।

Exit mobile version