প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৬:২৯ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:০১ এ.এম.

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে খাবারের নামে যাত্রী হয়রানি, দ্বিগুণ দাম নেওয়ার অভিযোগ

আহসান হাবিব, স্টাফ রিপোটার :

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে বাস থামিয়ে নির্দিষ্ট কিছু হোটেলে খাবার কিনতে গেলে স্বাভাবিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের খাবারের দাম প্রায় দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দূরপাল্লার বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ এসব হোটেলের ওপর নির্ভরশীল। বাস নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাঁড়ানোয় যাত্রীরা অন্যত্র গিয়ে খাবার কেনার সুযোগ পান না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু হোটেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো খাবারের দাম নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের আরও অভিযোগ, অনেক হোটেলে খাবারের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা হয় না। খাবার পরিবেশনের আগে দাম সম্পর্কে জানানো না হলেও বিল দেওয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে এর আগেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাসি খাবার ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে উল্লাপাড়ার মহাসড়কসংলগ্ন দুটি হোটেলে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছিল।

এ ছাড়া সলঙ্গা এলাকায় একটি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ নিয়েও চলতি বছরের জুনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় ও যাত্রীদের প্রশ্ন—মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এসব খাবার হোটেলে নিয়মিত মূল্য তালিকা, খাবারের মান, ওজন ও স্বাস্থ্যবিধি পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

যাত্রীদের দাবি, মহাসড়কের খাবার হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, দৃশ্যমান মূল্য তালিকা বাধ্যতামূলক করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

সচেতন যাত্রীদের প্রশ্ন—মহাসড়কের এসব খাবার হোটেলে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি কবে জোরদার হবে?