প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৮:০৭ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১১:৫৫ পি.এম.

বাইপাইল–নবীনগর থেকে রংপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

আহসান হাবিব, স্টাফ রিপোটারঃ

ঢাকার বাইপাইল ও নবীনগর এলাকা থেকে রংপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের মতে, একই রুটে একাধিক বাস কাউন্টার ও চালক-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অনেক সময় ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

২০২৬ সালের বিআরটিএ-নির্ধারিত ভাড়া তালিকায় ঢাকা (গাবতলী)–রংপুর রুটে বাসের আসন ও ধরন অনুযায়ী ভাড়া ৭৫১ টাকা থেকে ৯১১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাইপাইল ও নবীনগর থেকে রংপুরগামী যাত্রীদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাইপাইল থেকে রংপুরে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।

যাত্রীদের ভাষ্য, বাস ছাড়ার সময় ঘনিয়ে এলে কাউন্টার বা বাসের কর্মীরা নির্ধারিত ভাড়ার কথা না মেনে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। বিশেষ করে ছুটির দিন, ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবের সময় এ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। তখন যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়নায় অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হন।

এ নিয়ে আগে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগে যাত্রী ও পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েকটি পরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অলিখিত সমঝোতার কারণে যাত্রীরা বিকল্প বাসে যাওয়ার সুযোগও অনেক সময় পান না। ফলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ভাড়া সিন্ডিকেট’। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

যাত্রীদের দাবি, বাইপাইল ও নবীনগর এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্ট স্থানে টানানোর ব্যবস্থা করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকার নির্ধারিত ভাড়া থাকার পরও যদি যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করা হয়, তাহলে এই অতিরিক্ত অর্থ যাচ্ছে কোথায়? আর এর পেছনে কারা জড়িত—তা তদন্ত করে বের করা জরুরি।