রাস্তার কাজের জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অংশ নিচ্ছেন। রবিবার বিকালে নাটোরে নলডাঙ্গা উপজেলার হরিদা খলসী গ্রামের সোনার পাড়া হতে বানুর ভাগের দিকে রাস্তার কাজ করেন তারা
দীর্ঘ সময়ের কষ্ট দূর করতে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কাজ করছেন একটি গ্রামের মানুষেরা। রবিবার বিকালে এই কাজ শুরু করেন তারা। এলাকার প্রতিটি বাড়ি থেকে মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তহবিল তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের ওই গ্রামের নাম হরিদা খলসী। গ্রামটির সোনার পাড়া থেকে রাস্তাটি শুরু হয়ে বানুর ভাগ গ্রামের প্রধান সড়কের সঙ্গে মিলেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে এ কাঁচা রাস্তা যাতায়াতের অনুপযোগী ছিল। চলতি বর্ষায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা কাদায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কাদায় ঢাকা খানা-খন্দে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতো। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এলাকার বাসিন্দারা অসুস্থ হলে তাঁদের হাসপাতালে নিতে সমস্যা হয়,শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। এর পর স্থানীয় বাসিন্দারা আলোচনা করে নিজেদের রাস্তাটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য রাস্তা মেরামতের তহবিলও গঠন করা হয়। তাঁরা গ্রামটির প্রতিটি বাড়ি থেকে চালের মুষ্টি তুলে তহবিলে জমা করেন। তবে অনেকে নগদ টাকাও জমা দিয়েছেন। যাঁরা টাকা ও চাল দিতে পারেননি, তাঁরা শ্রম দিয়ে রাস্তা মেরামতে অংশ নিয়েছেন।
হরিদা খলসী গ্রামের বাসিন্দা মইন আলী বলেন, হাটবাজারে যাতায়াতের জন্যও রাস্তাটি একমাত্র ভরসা। অথচ প্রশাসন দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই নিজেরাই সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি বলেন, স্থানীয় ইউ. পি সদস্য এই রাস্তার স্থায়ী সমাধানের কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাঁকে সংস্কার কাজে সাহায্য করতে বললেও, পরবর্তীতে একাধিক বার তাঁর সাথে কথা বললে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি।
৫ নং বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিল্লুর রহমান জানান, রাস্তা স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করার খবর পেয়ে আমি আমার সাধ্যমত তাঁদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই ও রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হারুনুর রশিদ এর সাথে ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।