সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদারকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে প্রকাশিত একটি প্রতিবাদলিপিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদারকে নিয়ে খুবই উদ্দেশ্যমূলক, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
| শেরপুরে লেকার ফার্নিচার শিল্পের বিকাশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ |
প্রতিবাদলিপিতে যেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওসি কামরুল হাসান তালুকদারকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের পেছনে সত্য ঘটনা ভিন্ন।
পেশাগত প্রটোকল: প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, মাননীয় স্পিকারের বিমানবন্দর সফরের সময় নিরাপত্তা ও পেশাগত প্রটোকল রক্ষার জন্য ওসি কামরুল হাসান তালুকদারের সেখানে উপস্থিত হওয়া স্বাভাবিক সরকারি দায়িত্বের অংশ। এ ঘটনার কারণে বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে হয়রানির শিকার: বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওসি কামরুল হাসান তালুকদার ও তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। সংগঠনটির মতে, পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় তাঁকে দীর্ঘ সময় পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি চরম বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলেও প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়।
পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ: প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে অপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উসকানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে মামলা করার মধ্যে জড়ানো হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, সংশ্লিষ্ট মামলায় ওসি কামরুল হাসান তালুকদারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় ছিল না।
অপপ্রচারের পেছনে স্বার্থান্বেষী মহল?
প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করে, কিছু দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল পুরোনো বিষয়গুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামনে এনে বিএনপিপন্থী ও নিরপেক্ষ পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের হেয় করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো—
জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
প্রশাসনকে ভেতর থেকে দুর্বল ও অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করা।
অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন তাদের প্রতিবাদলিপিতে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারকে পেশাদার পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেয়ার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংগঠনটি দেশের সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সাথে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশের সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে দেশ ও জনগণের সেবায় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সভাপতি।