প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৭:৪৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৫, ২০২৬, ২:২৯ পি.এম.

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে অন্তত ১৬টা ভাষাগত ও শৈলীগত অসামঞ্জস্য, ভাষাবিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা

সৈয়দ আমান উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগপত্র প্রকাশের পর এর রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ভাষা ও বানান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পদত্যাগপত্রটি পর্যালোচনা করে কয়েকজন ভাষাবিশেষজ্ঞ ও বাংলা ভাষা-গবেষক এতে অন্তত ১৬টি ভাষাগত, বানানগত ও শৈলীগত অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করেছেন বলে দাবি করেছেন।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চিঠিটিতে প্রমিত বাংলা বানান, শব্দপ্রয়োগ, বাক্যগঠন এবং বাংলা একাডেমির ভাষারীতি অনুসরণে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট বানানগত ভুল থাকলেও, কয়েকটি বিষয় ভাষাশৈলী ও সম্পাদকীয় রীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভাষাবিশেষজ্ঞদের মতে, “স্পীকার”-এর পরিবর্তে “স্পিকার”, “পরিক্ষা”-এর পরিবর্তে “পরীক্ষা”, “ইদানিং”-এর পরিবর্তে “ইদানীং”, “রোগ সমূহের”-এর পরিবর্তে “রোগসমূহের” এবং যথাপ্রসঙ্গিক ক্ষেত্রে “কোন”-এর পরিবর্তে “কোনো” লেখা প্রমিত রীতির সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরোও পড়ুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু); ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প,
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, গুঞ্জনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

এ ছাড়া “শ্রদ্ধাজনেষু”-এর পরিবর্তে “শ্রদ্ধাভাজনেষু”, “অসামর্থ্যতার”-এর পরিবর্তে “অসামর্থ্যের” ব্যবহার অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন ভাষাবিদরা। পাশাপাশি “রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ”, “রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি” অথবা “নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে”—এসব বাক্যকে আরও সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে লেখা যেত বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

তবে ভাষাবিশেষজ্ঞরা এও উল্লেখ করেছেন যে, তালিকাভুক্ত সব বিষয়কে সমানভাবে বানানগত ভুল বলা যাবে না। “ডায়াবেটিস” ও “ডায়াবিটিস”, “২৪ এপ্রিল” ও “২৪শে এপ্রিল”, অথবা “হৃদরোগ” ও “হৃদ্‌রোগ”—এসব ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির সুপারিশ, প্রচলিত ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতির কারণে মতপার্থক্য রয়েছে।

ভাষা গবেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে প্রকাশিত যেকোনো সরকারি নথিতে ভাষার সঠিকতা, বানানের প্রমিত ব্যবহার এবং সম্পাদকীয় নির্ভুলতা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নথি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই প্রকাশের আগে ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রুফরিডারের মাধ্যমে নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ১৬টি অসংগতির সবগুলোই নিশ্চিত বানানগত ভুল নয়। এর মধ্যে কিছু বাংলা একাডেমির প্রমিত রীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, আর কিছু ভাষাশৈলী ও সম্পাদকীয় উপস্থাপনার বিষয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভাষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করবে।