প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৩, ২০২৬, ৫:০০ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৩, ২০২৬, ৩:০০ পি.এম.

গোপালগঞ্জ আদালতে পেপার ওয়েটের আঘাতে আহত শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী

এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছুঁড়ে দেওয়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার কারণে স্থানীয় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একজন বিচারকের এ ধরনের সহিংস আচরণ আদালত অবমাননা এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের দ্বারা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (২২ জুলাই) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার আদালতে বিচার চলাকালে পিছনের সারিতে কয়েকজন মক্কেল কথা বলছিলেন। এতে রেগে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া তাদের নীরব থাকতে বলেন।

উপস্থিত সবাই দ্রুত নীরব হয়ে গেলেও ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ করে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে তার টেবিলে থাকা ভারী পেপার ওয়েটটি মক্কেলদের দিকে ছুঁড়ে ফেলেন।

আরোও পড়ুন

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. নাজমুস সাদাত

পেপার ওয়েটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করে। তীব্র আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে উপস্থিত সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আইনজীবীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার পর আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি সম্ভব হয়নি।

এজলাসে বিচারকের এই অনভিপ্রেত আচরণে গোপালগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বারের একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিচারক সুজন মিয়া প্রায়ই কোর্ট চলাকালীন মক্কেল ও আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকের আসন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং পবিত্র জায়গা। এজলাসে রাগের মাথায় এই ধরনের মারাত্মক শারীরিক আঘাত বা সহিংস আচরণ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৪/৩২৬ ধারা (মারাত্মক অস্ত্র বা বস্তু দিয়ে স্বেচ্ছায় আঘাত) এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর সোজা লঙ্ঘন। এটি বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং দায়ী বিচারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জের এই বিচারক আইনজীবীদের সাথে এই আচরণ করে বিচারকদের মান সম্মান নষ্ট করেছে। দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করছে সকলে। আমরা এই পরিস্থিতি দেখতে চাইনি!