প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১:২৫ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:১৪ এ.এম.

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ

সিলেটকে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, “দেশ আমাদের সবার। ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হবে। সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য সিলেট বহন করে তা ভবিষ্যতেও রক্ষা করতে হবে।”

শুক্রবার দুপুরে সিলেট শহরের মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সিলেট জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথার ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়; এটি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনস্থল। হজরত শাহজালাল (রহ. ), হজরত শাহপরান (রহ. ) এবং শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি বিজড়িত এই পুণ্যভূমি যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যের অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। এই ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা রোধ করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তিকে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিককে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে থাকতে হবে।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিগত অফিসে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারী একসঙ্গে কাজ করছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্ম নয়, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততা সর্বাধিক গুরুত্ব পাতে, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের স্মৃতি শেয়ার করে তিনি বলেন, ”সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের আন্তরিক সমর্থন তিনি আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষত নারীদের ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সিলেটের সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রশাসনে প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিভিন্ন জেলার সাম্প্রতিক ঘটনাসহ সমস্ত বিষয় সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপিত হবে। প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ”সম্মেলনে যোগদানের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ”বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও দেশের ওপর প্রভাব রাখছে। তবে সরকার সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে।”

সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি জানান, ”তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আটটি মন্দির ও চারটি শ্মশানঘাটের সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক জয়ন্তিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।”

সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ”সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষা করতে সিলেটের জনগণ সবসময় একসঙ্গে থেকেছে। ভবিষ্যতেও সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই ঐতিহ্য আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।”