প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৩, ২০২৬, ৯:১৫ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৩, ২০২৬, ৭:২৯ পি.এম.

গোপালগঞ্জ আদালতে বিচারকের পেপার ওয়েট নিক্ষেপের ঘটনায় আইনজীবীদের বিক্ষোভ

এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ওপর বিচারক কর্তৃক হামলার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

গত ২২ জুলাই ২০২৬ ইং প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপার ওয়েটের আঘাতে ওই নারী আইনজীবী আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত বিচারকের দ্রুত অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, গতকাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা শুনানি চলাকালে বিচারক সুজন মিয়া হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুতর আহত ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

এই নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক ঘটনার কারণে আজ সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যরা বিচার কাজ বর্জন করে জেলা বার ভবনের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বার ভবনের সামনে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

আরোও পড়ুন

গোপালগঞ্জ আদালতে পেপার ওয়েটের আঘাতে আহত শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে আইনজীবী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “প্রকাশ্য আদালতে বিচারক কর্তৃক একজন নারী আইনজীবীর ওপর এমন হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনা খুবই দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। বিচারালয়ে আইনজীবীর মর্যাদা ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার অভাব হবে।”

বক্তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার দ্রুত অপসারণের জোর দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির আন্দোলন ও বর্জন কর্মসূচি চলতে থাকবে।

এদিকে এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিচারকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে আদালত সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা ইতোমধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে। কষ্ট! লজ্জা! আমরা কেন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হবো! আজ আমরা লজ্জিত! এই বিচারক সুজন মিয়া ঘুষ বাণিজ্যে ও সুচতুর! ধিক্কার! আইনজীবীরা বলেন বিচারক যখন ঘুষ বানিজ্যে আসক্ত হন তখন ন্যায় বিচার আশা করা ভুল! আজ মানুষ যখন দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন তখন কিছু মানুষ দেশটাকে কলুষিত করছে। আমরা সকলে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই!