রাকিবুল হাসান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল-এর বিরুদ্ধে রুল প্রদান করেছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো: আশিফ হাসান গঠিত বেঞ্চ।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর সনদ জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নট্রামস) বগুড়ায় যাচাইয়ের জন্য ২৯/১১/২০২১ তারিখে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
০৫/১২/২০২১ তারিখে নট্রামসের উপ-পরিচালক একটি চিঠিতে জানান যে, “রেজিস্টারে যাচাই করে দেখা গেছে এই সনদ নেকটার (প্রাক্তন নট্রামস) এর দ্বারা ইস্যু করা হয়নি এবং সনদটি জাল/ভুয়া।” এর পর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ তাকে ২০/০৪/২০২২ তারিখে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে।
প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর নাম এমপিও থেকে কর্তনের জন্য মহাপরিচালক মাউসিতে আবেদন করেন। আবেদনের নম্বর ৬৯৮৭, তারিখ—১৩/১২/২৩। কিন্তু পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে ২০/০৮/২০২৫ তারিখে পুনঃনিয়োগ দেন।
সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান ০৯/১১/২০২৫ তারিখে মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন, যার সংখ্যা ৬৬২৭। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হল; ষষ্ঠ শ্রেণি পাস সিফিয়ান গাজীকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ বলার মাধ্যমে জাল সনদ প্রদান এবং তার বিনিময়ে তাকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগ দেওয়া।
বিদ্যালয়ের পুরাতন বিল্ডিংটি অনুমতি ছাড়া বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং ভবিষ্যতের চাহিদার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে মিথ্যা আবেদন করে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় করছে।
কিন্তু, মৌসির মহাপরিচালক দ্বারা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় মাহফুজুর রহমান মহামান্য হাইকোর্টে ২০৬১৪/২৫ নম্বর একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত ১৭/১২/২০২৫ তারিখের নির্দেশে মহাপরিচালক মাউসিকে এবং জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরে-কে ৩০ দিনের মধ্যে বাদীর ০৯/১১/২০২৫ তারিখের আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য বলেন।
বাদী আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য ০১/০১/২০২৬ তারিখে ১ নম্বর কপি মহাপরিচালক এবং ০৫/০১/২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরায় আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক ১৫/০১/২০২৬ তারিখে মহাপরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন, যার নম্বর ০৫.৪৪.৮৭০০.০০০.০১৭.২১.০০০২.২৬—২২৯(সংযুক্ত)।
সেক্ষেত্রে বাদী মাহফুজুর রহমান মাউসির আইন কর্মকর্তা আল আমিন সরদারের সাথে এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনের সাথে বারবার যোগাযোগ করেন, কিন্তু কোন ফল পাননি। শেষমেষ, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষিত হওয়ার কারণে কেন আদালত অবমাননা (কনটেম্পট) মামলা হবে না, তা জানতে বাদী ০৬/০৫/২০২৬ তারিখে ১০ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ পাঠান।
কিন্তু, বাদী সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২১৯/২৬ নম্বর কনটেম্পট মামলা দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো: আসিফ হাসান গঠিত বেঞ্চ ২৯/০৬/২০২৬ তারিখে মাউসির মহাপরিচালক (ডিজি)-এর বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। রুলে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে শোকজের উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।