প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১, ২০২৬, ৫:১৫ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ১১:৩৭ পি.এম.

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বাজেটের আগে কল্পতরু মোদি সরকার

সৌরভ দত্ত, কলকাতা:

রাজ্যটির সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার সোমবার তাদের প্রথম বাজেট বিধানসভায় উপস্থাপন করবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বাজেটকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত অপেক্ষার পারদ বেড়ে উঠছে।

বিশেষভাবে, ডিএ সংক্রান্ত বড় খবর শিগগিরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ঘোষণা করতে পারে বলে জল্পনা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও, একাধিক নতুন ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই সব জল্পনার মধ্যে বাংলার প্রতি কল্পতরু নরেন্দ্র মোদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। বরাদ্দ হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি, বিজেপি সরকারকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সেই পরিমাণের হিসাব দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হয়েছিল। রাজ্যটিতে এই প্রথম বৃহত্তরভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হলো।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারকেশ্বরে উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি আবেগপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পাতার চিঠিতে রাজ্যের প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বাংলার গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে বাংলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনাও উল্লিখিত হয়েছে। এক্ষেত্রে দেড় মাসের মধ্যে বাংলাকে কত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তাও উল্লেখ আছে।

প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সম্ভাব্য সবভাবে সহায়তা করবে। জল জীবন মিশন এবং  অবকাঠামো সংক্রান্ত কাজের জন্য আটকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রেলের বিকাশের জন্য প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে এবং ৬০,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আমি বিশ্বাস করি যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের যাত্রা আরো বেশি উদ্দীপনার সঙ্গে চলবে। কারণ, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে! পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী এবং আধুনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মানে হলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আনা, শিল্পের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, এমএসএমইগুলিকে সমর্থন প্রদান করা, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা এবং নিশ্চিত করা যে উদ্যোগগুলো হয়রানি ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে সহযোগিতার সম্মুখীন হয়।”

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদী ভবিষ্যতে বাংলা মৎস্য চাষ, উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, বস্ত্র শিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তাঁর মতে, “রাজ্যের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে বাণিজ্য ও সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।

বিজেপি সরকারের অধীনে কঠোর পরিশ্রমী কৃষকরা সর্বদা নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে থাকেন এবং আমি বিশ্বাসী যে পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম হবে না।” উল্লেখযোগ্য যে, বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী দ্বি ইঞ্জিন সরকারের সুফলগুলি তুলে ধরেছিলেন। তিনি সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সেই অনুযায়ী, বিজেপি সরকার বাংলার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দিল্লির সরকার সর্বোচ্চভাবে বাংলার পাশে রয়েছে।