সৌরভ দত্ত, বিশেষ প্রতিনিধি কলকাতা:
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আবারও দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল সরকারের সময় শিক্ষক-চিকিৎসকদের পদোন্নতির বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে, prior ইন্টারভিউয়ের পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে গেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্য ভবনের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারণে বড় একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতির জন্য অপেক্ষারত ১০২৫ জন শিক্ষক-চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ বর্তমানে গুরুতর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের সূত্রানুযায়ী, মার্চ মাসে একটি ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য ছিল। তবে, নিয়োগ প্যানেলে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন উচ্চ কর্মকর্তারা। প্রশ্ন উঠেছে, মেধার বদলে কি অন্য কোনো প্রভাব কাজ করেছে কিনা। স্বাস্থ্য দফতরের স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পুরো প্যানেল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, কি ধরনের অনিয়ম ঘটেছিল তা সরকারী পর্যায়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
মার্চ মাসে প্রকাশিত তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০২৫টি শূন্যপদ ছিল। এই পদগুলির জন্য ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল। এই শূন্যপদের মধ্যে ২২৬টি প্রফেসরের, ৪৭১টি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরের এবং ৩২৮টি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের আসন রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক পদে যোগ্য চিকিৎসকরা ইন্টারভিউ দিয়েছেন। তারা নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। সেই সময়ে হঠাৎ করে প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু হবে। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ জুন। পূর্বের পর্বে আবেদন ও ইন্টারভিউ দেওয়া ব্যক্তিদেরও আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে। নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে দপ্তর।
দুর্নীতির কালিমা মুছতে এবং স্বজনপোষণ রোধ করতে এবার স্বাস্থ্য ভবন এ একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের কোন সিনিয়র চিকিৎসক আর ইন্টারভিউ নেবেন না। স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কর্মকর্তাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকতে পারবেন না। চিকিৎসকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এবার সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
এবার থেকে ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য রাজ্যে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেশের অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সিনিয়র চিকিৎসকদের। স্থানীয় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে না পড়ে, সেজন্য এই ‘বহিরাগত’ বিশেষজ্ঞদের নেওয়া হচ্ছে।
মনে রাখা উচিত, গত বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেন অবনতির দিকে গেল তা বিশ্লেষণ করতে হবে। যাদেরকে অভয়াকাণ্ডে জড়িত পাওয়া যাবে, তাদের বক্তব্যও শুনতে হবে। তিনি, যিনি এছাড়াও চিকিৎসক, বলেছেন, ‘আমি খুশি যে একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করছি। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০টি বিভাগের সামগ্রিক বিষয় রয়েছে। এটি একটি বিশাল ক্ষেত্র।’

