দৈনিক নবদিগন্ত

ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তর ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের

ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তর ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের

সংগ্রহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ২৭তম দিনে পৌঁছেছে। সংঘাতের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরবর্তীতে একের পর এক সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং একটি পরমাণু বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে অবস্থিত আইডিএফের কমান্ড সেন্টার এবং মৃত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে ভোরের দিকে এই হামলা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চললেও তা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই যৌথ অভিযানের প্রাথমিক ধাক্কায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। চলমান সংঘাতে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরানে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

আইআরজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান বা সামুদ্রিক তৎপরতা বাড়ায়, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন করে সামরিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর সহযোগিতাও পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Exit mobile version