যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরান এখনও শক্ত জবাব দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনের স্যাচুরেশন অ্যাটাকে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।
এখন ইরান তাদের ড্রোন প্রযুক্তির নতুন নকশা প্রকাশ করেছে। নতুন সংস্করণে ড্রোনের প্রপেলার বা পাখাটি সামনের দিকে বসানো হয়েছে, যা শনাক্ত করা আরও কঠিন করবে। এছাড়া আগের গ্যাসোলিন পিস্টন ইঞ্জিনের বদলে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে ড্রোনের ওড়ার শব্দ কমবে এবং রাডার ও থার্মাল শনাক্তকরণে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন নকশার ফলে ড্রোনের অ্যারোডাইনামিক কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৬–২৭ ফেব্রুয়ারি সংলাপ চালানো হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করে। প্রথম ধাক্কায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা।
এর জবাবে ইরানই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ১৭ দিন ধরে চলমান এই পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
