প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৮:১৮ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ২:৫২ পি.এম.

কলকাতায় ‘হিরোজ অব এশিয়া–ভলিউম I’ প্রকাশ, ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার অঙ্গীকার

নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘হিরোজ অব এশিয়া–ভলিউম I’ বইয়ের সফল প্রকাশনা কলকাতার বউবাজারের ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন হলে হয়। অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ অতিথি, গবেষক, সহকারী লেখক, স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. শুভ্র চক্রবর্তী-র ভাবনা ও নির্দেশনায় তৈরি এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য হল অখ্যাত ও অল্প জানা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মবলিদানকে গবেষণার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা।

বইটিতে অনেক বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবন ও অবদান উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয়, বসন্ত কুমার বিশ্বাস, লেফটেন্যান্ট সুনীল কুমার ব্যানার্জি, ক্রান্তিবীর হৃদয় রঞ্জন চক্রবর্তী, সর্দার বলবন্ত সিং পরদেশী, কেদারেশ্বর চৌধুরী, বালি চরণ দাস, খড়্গবল্লভ দাস, পরীক্ষিত মুখোপাধ্যায়, রফিজউদ্দিন আহমেদ এবং পুরেন্দ্র নারায়ণ নাথ।

অনুষ্ঠানে শ্রী সায়ন্তন বসু এবং শ্রী বিমল শঙ্কর নন্দ সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন। শ্রী মানিক ডোলুই এবং শ্রী নীতীশ বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়, সহকারী লেখক ও এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কনভেনর, আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে এসে এই উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এ উপলক্ষে অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়, এইচআরসিবিএম-এর পক্ষ থেকে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনকে একটি স্মারক সম্মাননা দেন, যা অখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগকে সম্মান ও সমর্থনের प्रतीক।

অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় এই মহৎ উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের নীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে গবেষণা, নথিবদ্ধকরণ এবং ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই উদ্যোগ ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রামের কম প্রচলিত ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছেন।

তিনি তাঁর মূল বক্তব্যে বলেন,”দীর্ঘ ত্যাগের মাধ্যমে বিপ্লবীরা দেশকে স্বাধীন করেছে। ব্রিটিশরা তখনকার সময়ের অনেক রেকর্ড নষ্ট করে ফেলেছে, তাই অনেকের নাম আমরা জানি না কিন্তু হৃদয় রঞ্জন চক্রবর্তী, যার সম্পর্কে লিখতে পারা আমার গর্বের বিষয়। আমরা চাই আগামী প্রজন্ম এই বইয়ের মাধ্যমে বিপ্লবীদের নাম জানুক, আমি ড. শুভ্র চক্রবর্তীকে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আমরা নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একসাথে কাজ করব।”

শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পাল, ড. কল্যাণ চক্রবর্তী এবং শ্রী কার্তিক মহারাজ ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁরা বই প্রকাশ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও সম্মান জানানোর লক্ষ্যে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।

নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা ড. শুভ্র চক্রবর্তী, উপদেষ্টা শ্রী শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের আহ্বায়ক শ্রীমতী মঞ্জু মুখোপাধ্যায় এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী দেবাশিস নন্দী সহ অন্যান্য সহযোগী লেখক, গবেষক এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

‘হিরোজ অব এশিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশন সেই সব ঐতিহাসিক কাহিনি জনসমক্ষে তুলে ধরতে চায়, যেগুলি আজও অনেক পরিবারের স্মৃতি, আঞ্চলিক নথিপত্র এবং বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক দলিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাহস, আত্মত্যাগ, সততা এবং দেশপ্রেম থেকে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এই উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি ‘হিরোজ অব এশিয়া’-কে ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের একটি বৃহত্তর মঞ্চে পরিণত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের স্থায়ী বার্তাটি আবার বলা হয়— “অখ্যাত বীরদের স্মরণ করুন। তাঁদের উত্তরাধিকার রক্ষা করুন। নতুন প্রজন্মকে উত্সাহিত করুন। জাতি প্রথমে।”