প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১২:৪৬ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৯, ২০২৬, ৭:৫২ পি.এম.

টিবি রোগ নির্ণয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে বাংলাদেশের ৬ রেফারেন্স ল্যাব

মো. আল-মাহফুজ শাওন:

বাংলাদেশে যক্ষ্মা (টিবি) রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত ছয়টি আঞ্চলিক টিবি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি (Regional Tuberculosis Reference Laboratory—RTRL) আন্তর্জাতিক মানসংস্থা ISO অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের লক্ষ্যে আবেদন করেছে।

অনুমোদন মিললে এসব সরকারি ল্যাবরেটরির পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাবে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

জানা গেছে, গত ১১ মার্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ল্যাবগুলো মূল্যায়ন (Assessment) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু সন্তোষজনক থাকলে শিগগিরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলতে পারে।

আবেদনকারী ছয়টি ল্যাবের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের দুটি, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের একটি করে, এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের একমাত্র আঞ্চলিক টিবি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি, যা খুলনার ফুলবাড়ীগেটের মিরেরডাঙ্গায় অবস্থিত বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পরিচালিত হচ্ছে।

খুলনা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আরটিআরএল ল্যাবের পরিচালক মামুন হাসান হিমেল বলেন, সবকিছু সন্তোষজনক থাকলে ল্যাবগুলো খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে।

তিনি বলেন, “এটি দেশের সরকারি ল্যাবরেটরিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ল্যাব ISO অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করতে পারেনি।”

তিনি আরও জানান, খুলনার আরটিআরএল ল্যাবে অত্যাধুনিক GeneXpert প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে যক্ষ্মা শনাক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে ওষুধ-প্রতিরোধী (Drug-resistant) যক্ষ্মাও নির্ণয় করা যায়। এছাড়া এখানে মাইক্রোস্কোপি ও কালচার পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাকালীন নিয়মিত ফলোআপ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বর্তমানে খুলনা বিভাগের ৭৭টি এবং বরিশাল বিভাগের ৪৭টি GeneXpert সাইট এই রেফারেন্স ল্যাবের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ল্যাবটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হয়ে বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হলে এসব ল্যাবরেটরির পরীক্ষার মান, নির্ভুলতা, নির্ভরযোগ্যতা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারি ল্যাবগুলোর পরীক্ষার ফলাফল অধিক গ্রহণযোগ্য হবে।

এর মাধ্যমে দেশের সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষাগারগুলো বৈশ্বিক মানদণ্ডে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে এবং যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে।