নিজস্ব প্রতিনিধি:
তিনি চলে গিয়েছেন কয়েক মাস আগে, তবু তিনিই যেন সশরীরে আবারও ফিরে এলেন প্রেক্ষাগৃহের পর্দায়। আরও একবার কাঁদিয়ে দিয়ে গেলেন দর্শক ও সহ-অভিনেতাদের।
গত মার্চ মাসে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ শে জুলাই তাঁর অভিনীত ‘ছবিওয়ালা’র স্ক্রিনিং হয়েছিল শহরের এক প্রেক্ষাগৃহে। শনিবার চিত্রগ্রাহকদের জন্য ছবি বিশেষ প্রদর্শনী হলো রাধা স্টুডিওতে।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অগাধ ভালোবাসা থাকলেও তাই দিয়ে কি আর পেট ভরে? নিরুপায় হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেয় দম্পতি। যে ছবির সন্ধানে দিনের পর দিন সেই ফটোগ্রাফার ঘুরে বেরিয়েছে, শেষে হতাশার চরমে দাঁড়িয়ে তুলে আনা তার এক মর্মান্তিক ছবিই এনে দেয় সেই বহুকাঙ্খিত সাফল্য।
‘ছবিওয়ালা’ দৈনন্দিন জীবনে শিল্পী ও শিল্পের টিকে থাকার সংগ্রামকে তুলে ধরে। ছবিতে রাহুল একজন শৈল্পিক ফটোগ্রাফার।যে সমাজের চোখে বাতিল হতে হতে এখন শুধু মৃত মানুষের ছবি তোলার ডাক পায়। সেই মৃত আত্মরাও যেন অবসরে তার ফটোগ্রাফির প্রতি ব্যঙ্গ রেখে যায়! যে ছবি শুধুমাত্র দেখনদারির জন্য বিক্রি হয় সেই ছবি সে তুলে উঠতে পারে না।
এদিকে তার স্ত্রী কারখানায় কাজ করে সংসারের খরচ জোগায়, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা দত্ত। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অগাধ ভালোবাসা থাকলেও তাই দিয়ে কি আর পেট ভরে? নিরুপায় হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেয় দম্পতি। যে ছবির সন্ধানে দিনের পর দিন সেই ফটোগ্রাফার ঘুরে বেরিয়েছে, শেষে হতাশার চরমে দাঁড়িয়ে তুলে আনা তার এক মর্মান্তিক ছবিই এনে দেয় সেই বহুকাঙ্খিত সাফল্য। রাহুল এবং দেবলীনার অসাধারণ অভিনয় সমৃদ্ধ এই ছবিতে অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন শান্তনু নাথ, রানা বসু ঠাকুর, রিমি দেব। একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্রও।
রাহুলের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’ রিভিউয়ের উর্ধ্বে। তাই কাটাছেঁড়া না করে সেদিন প্রেক্ষাগৃহের আবেগঘন পরিবেশ খানিক তুলে ধরা যাক।
দেবলীনা দত্ত জানান, রাহুল নেই একথা এখনও তিনি মানতে পারেননি। এই স্ক্রিনিংয়েও রাহুল তাঁদের সঙ্গেই বসে ছবিটা দেখেছেন বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
ছবির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন সোমু মিত্র। উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দেবিকা মুখার্জি, অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, রানা বসু ঠাকুর ,সোমু মিত্র সহ ছবির কলাকুশলীবৃন্দ এবং চিত্রগ্রাহকরা।
ছবির প্রদর্শনীর পরে বিশেষভাবে চিত্রগ্রাহকদের সম্বর্ধিত করা হয়।