প্রিন্ট এর তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৬:২৮ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১২:১১ পি.এম.

পত্নীতলায় দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল, পাসের হার শূন্য

আব্দুল আজিজ, নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের চক নোদবাটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার শূন্য শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এমন ফলাফলের কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবারের দাখিল পরীক্ষায় চক নোদবাটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। ফলে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল হওয়ার বিষয়টি এলাকায় বিশাল আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকদের কিছু অংশ যথেষ্ট মনোযোগীর নয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। নিয়মিত ক্লাসের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ একাডেমিক সহায়তা না পাওয়ার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

তাদের বক্তব্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী ফেল করা খুবই উদ্বেগজনক। এ ধরনের ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও মানসিক অবস্থার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যালোচনা করা দরকার।

একাধিক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, মাদ্রাসায় নিয়মিত পড়াশোনা ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না। তাদের মতে, কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে বিষয়টিকে দেখা যাবে না; এর পেছনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, পড়ার মান এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও তদন্ত করতে হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটির মোট শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি করেছেন। একই সাথে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।