নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার মান যাচাই করে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কঠোর নজরদারির কারণে নিম্নমানের বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণের অভিযোগ কমেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি এসেছে।
জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এসব বিদ্যালয়ে ২২ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সরকারি কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম, রুটি, কলা, দুধ, বিস্কুটসহ পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়।
এর আগে কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়ার অভিযোগ হয়েছিল। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক করে দুইজন শিক্ষক ও তিনজন অভিভাবক প্রতিনিধির নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদারকি কমিটি গঠন করেছে।
| হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরের পথ রোধে ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধের অভিযোগ |
বর্তমানে প্রতিদিন খাবার বিতরণের আগে কমিটির সদস্যরা খাবারের মান, মেয়াদ ও গুণগত দিক পরীক্ষা করে সন্তোষজনক হলে তবেই শিক্ষার্থীদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। কোনো খাবার নিম্নমানের বা নষ্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা ফেরত পাঠিয়ে নতুন খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
অভিভাবক ও কমিটির সদস্যরা জানান, নিয়মিত তদারকির ফলে এখন বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও আগে থেকে অনেক বেশি আনন্দের সাথে খাবার গ্রহণ করছে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও বেড়েছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এখন তারা ভালো মানের খাবার পাচ্ছে। তাই স্কুলে আসতে তাদের আগ্রহ বেড়েছে এবং স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমেছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, “খাবারের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পোঁছেছে। আমরা আশা করি, সরকার এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।”
শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও একইভাবে খাবারের মান নিয়মিত তদারকির আবেদন জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।