Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

ইউরোপে প্রথমবার জ্বালানি তেলের বিক্রিতে সীমা: স্লোভেনিয়ার পদক্ষেপ

ইউরোপে প্রথমবার জ্বালানি তেলের বিক্রিতে সীমা: স্লোভেনিয়ার পদক্ষেপ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর, ইউরোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্লোভেনিয়া জ্বালানি বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

স্লোভেনিয়ার সরকার ঘোষণা করেছে, এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে পারবেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ মজুত রক্ষার জন্য এবং আন্তর্জাতিক তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট এবং ফুয়েল টুরিজম

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্লোভেনিয়ায় তেলের দামের বৃদ্ধি ও সীমিত সরবরাহের কারণে ‘ফুয়েল টুরিজম’ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী অস্ট্রিয়ায় কম দামে তেল কিনতে দেশটির নাগরিকরা ভ্রমণ করছেন।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর কার্যত অচল হয়ে পড়া বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে, যা বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছে।

জ্বালানি দামের প্রভাব

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহণ খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ইউরোপের সাধারণ মানুষের গৃহস্থালির গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলও ক্রমেই বেড়ে চলেছে

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার খবর এসেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৫৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৫.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ

মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো ‘চুক্তি করতে মরিয়া’। তিনি বলেন, এই আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও যুক্ত রয়েছেন।

তবে সোমবার তেহরানের এক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলছে এমন দাবিকে ভুয়া হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এরপরও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে

স্লোভেনিয়ার এই পদক্ষেপই প্রথমবার ইউরোপীয় দেশে জ্বালানি বিক্রিতে সীমা আরোপের উদাহরণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালীর সমস্যা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

যদিও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার সম্ভাবনা কিছু স্বস্তি আনলেও, ইউরোপ এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

Exit mobile version