প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ৩:২২ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৪, ২০২৬, ৪:৪৭ পি.এম.

জৈন্তাপুরে বিজিবির জব্দ ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

 সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ

শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) সকালে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর-খড়মপুর সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর পরিবহনের সময় বিজিবির টহল দল চারটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে। তবে ট্রাকগুলো শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পে নেওয়ার পথে একদল শ্রমিক ও স্থানীয় অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীর বাধার মুখে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, তারা জব্দ করা ট্রাকগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়, সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জব্দ করা ট্রাকগুলো শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পে নেওয়ার সময় ক্যাম্পসংলগ্ন আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে কয়েকশ শ্রমিক ও স্থানীয় অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী ট্রাকগুলোর গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তিনটি ট্রাকের পাথর মহাসড়কের ওপর আনলোড করে ট্রাকগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে সর্বশেষ ট্রাকটির পাথরও আনলোডের চেষ্টা করা হলে বিজিবি সদস্যরা বাধা দেন। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপর পাথর ফেলে ট্রাকটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ট্রাকটি উদ্ধার করে ক্যাম্পে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিজিবির অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এরপর একজন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), থানা পুলিশের একাধিক টিম, তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ পাথরবোঝাই ট্রাককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি বাহিনীর জব্দ করা ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।