প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ১, ২০২৬, ৫:৪২ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ১:২৩ পি.এম.

বিশ্বনাথে মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, বিচারের দাবি

আফজাল মিয়া, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

সিলেটের বিশ্বনাথে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ এবং মানব পাচারের অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরে তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দশপাইকা গ্রামের আজিম খান (২৩) লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের ভুক্তভোগী কাউসারের পিতা আইন উদ্দিন (۷৫), লহরী নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল জলিল (৬০), লহরী গ্রামের মোস্তাব আলী (৩৫), বালাগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর চাচা রিয়াজ উদ্দিন (৫২), মজলিশপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (২৫), ওসমানীনগর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের মো. সেবুল মিয়া (৪৫), তাজপুর গ্রামের শাহান আলী (২৪), বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৭), জগদ্বীশপুর গ্রামের আল আমিন (৩০) এবং দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের জুনাব আলী (৪৫)।

আজিম খান তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী (৪৬), তার সৌদি আরবের অভিবাসী ভাই আছকির আলী (৫৫), রাজনা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৪৫) ও ফাহাদ আলী (২৫) তাকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর নিশ্চিত করার পর তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস ও নগদে মোট ৫ লাখ টাকা নেন। কিন্তু তিনি যে প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসা আশা করেছিলেন, এর পরিবর্তে তাকে তিন মাসের মেয়াদী একটি অন্য রকম ভিসার পিডিএফ কপি প্রদান করে, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের নামে সব টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হয়। তখন তার  ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, সৌদি আরবের ৫০০ রিয়াল এবং বাংলাদেশী ৬-৭ হাজার টাকা রেখে হুমকির মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয়।

পরে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরো অনেক ভুক্তভোগী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ধীরে ধীরে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে গত ৮ মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে তার পাসপোর্ট এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। চেয়ারম্যানের অফিস থেকে ১৫ এপ্রিল, ৩ মে এবং ৯ জুন এ বিষয়ে তিন দফা নোটিশ পাঠানো হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর তারা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান আইনে মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে, সিলেটের বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষের এই ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ খান জানান, অভিযুক্তদের কোনো সাড়া না পাওয়ার পর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য তিনি একটি সনদ প্রদান করেছেন।

অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।