সারোয়ার নেওয়াজ, (হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:)
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক গোায়াল ঘর নির্মাণ করে গরু পালন করছেন। এর ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
একাধিক দিন ধরে বিদ্যালয়ে গরু পালন করার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। চারপাশে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় রোগব্যাধির সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছে স্থানীয়রা।
সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের নিচতলায় শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গির আলম গরু পালন করছেন।এর ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর হয়ে পড়েছে বর্জ্য চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়টি পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিক্ষকটি তা মেনে নিচ্ছেন না- এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। দ্রুত ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় জনগণ।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে দুটি গরু আবদ্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ বর্জ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে নাক চেপে যেতে হচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বিদ্যালয়ে গোয়াল ঘর থাকাতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা খড়-কুটা ও ঘাস একত্রিত হয়ে রয়েছে। গোবর এবং খড়-কুটার বর্জ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত বিদ্যালয় থেকে গরু ও গোয়াল ঘরের অপসারণের দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম বিদ্যালয় ভবনে গোয়াল ঘর নির্মাণ করেছেন। গোয়াল ঘরের বর্জ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার গরু দুটি সরানোর অনুরোধ করার পরও তিনি কর্ণপাত করছেন না। তাছাড়া, সরকার স্কুলের মাঠ উন্মুক্ত রাখার আদেশ দিয়েছে, তারপরও ছাত্রদের খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে নিজের সুবিধার জন্য বিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চুনারুঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কাওছার শোকরানা জানিয়েছেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তথ্য সংগ্রহ করে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

