Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

নবীগঞ্জে কৃষককে মারধরের মামলায় বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নবীগঞ্জে কৃষককে মারধরের মামলায় বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামে একটি খাল বেসরকারিভাবে লিজ নিয়ে কৃষক সমসু মিয়ার উপর নৃশংস হামলার ফলে বাদী পরিবার থানায় মামলা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ও তাদের সহায়কেরা বাদীকে মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ প্রদান করে এবং হুমকি দেয় যে, যদি মামলা প্রত্যাহার না করে তাহলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। এ ঘটনায় ১৯ মে ২০২৬ তারিখে সমসু মিয়ার ভাই ও মামলার বাদী নজির মিয়া জীবন রক্ষার জন্য নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

তিনি ঐ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন এবং গণমাধ্যমে জানান, ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সন্ধ্যায় মামলার বাদী রাইয়াপুর গ্রামের নজির মিয়ার বড় ভাই কৃষক সমসু মিয়াকে একটি খালের leasing নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত আলতা মিয়ার ছেলে জুবেদ মিয়া, মৃত ইন্তাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল মালিক, কনা দরজির ছেলে ইমদাদুল মিয়া ও তাদের সহযোগীরা নির্মমভাবে হামলা করে গুরুতর আহত করে পরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। এ রিপোটে মসজিদের মাইকেও মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়ে এখন তিনি দুই পায়ে রিং লাগিয়ে জীবন সংগ্রাম করছেন।

এই ঘটনার পর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে বিভিন্ন ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযুক্তরা হাজতবাস থেকে বের হয়ে বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রদান করতে থাকে।

এ বিষয়ে সমসু মিয়া জানান, তার স্ত্রী, ভাই ও পাঁচ সন্তান সব সময় হুমকির মধ্যে রয়েছে। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সোজা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা বলে যে, তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনকে হত্যা করবে। সে তার দুর্বল পরিস্থিতির কথা বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে সাহায্য কামনা করছে।

এরপর ১৮ মে ২০২৬ তারিখ বিকালে বাদী নজির মিয়ার সঙ্গে আসামীদের মুখোমুখি হলে তারা হুমকি দেয় যাতে মামলা তুলে নিতে হয় অথবা আপোষ করতে হবে, অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে বাদী ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদান করে। এসব অবস্থার মধ্যে বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য নবীগঞ্জ থানায় আবার একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ২১ মে দুপুরে নবীগঞ্জ থানার এএসআই সেলিম আহমেদ ঘটনা তদন্তে গিয়ে বাদী এবং আসামীকে স্থানীয় বাজারে আসার জন্য বলেন। সেখানে বাদী ও তার অসুস্থ ভাই সমসু মিয়াকে হামলার চেষ্টা করে আব্দুল মালিক ও তার লোকজন গালাগালি করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানার পুলিশ বাধ্য হয়। সমসু মিয়া দীর্ঘ ৩ মাস ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং এখনও শঙ্কামুক্ত হননি বলেও জানান।
এ বিষয়ে এ এস আই সেলিম আহমেদ এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলোচনা করলে তিনি জানান, আমাদের উপস্থিতি হলে কিছু সমস্যা তৈরি হবেই। কিছু ঘটনার তারতম্য হয়েছে। তবে, বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল মালিকের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করার সময় তিনি ঘটনার কিছুটা সত্যতা মেনে আগের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বাদীর প্রতি অশালীন মন্তব্য করেন। কিন্তু, এই ঘটনার কারণে গ্রামের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন নাগরিকরা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। অসহায় পরিবারগুলোর সদস্যরা শাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করছেন।

Exit mobile version