Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

টাঙ্গুয়ার হাওরে অনিয়মের অভিযোগ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

টাঙ্গুয়ার হাওরে অনিয়মের অভিযোগ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মোঃ নোমান হাসান খাঁন, স্টাফ রিপোর্টার:

গ্রীষ্মের রাতে চাঁদনী আলো ও জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ সৌন্দর্যের মাঝে টাঙ্গুয়ার হাওর বর্তমানে নানা অনিয়ম, দুর্বল পর্যবেক্ষণ এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলোচনা  করছেন।

স্থানীয় লোকজনের জানান, হাওরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের কার্যকারিতা এখন গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন।
অবশ্যই স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, হাওরের বিভিন্ন অংশে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল এবং কোনার জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার চলছে। তাদের মতে, এতে হাওরের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য খুবই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পানির প্রবেশের আগেই একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক মেশিনের ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, জয়পুর গ্রামের আলী আহমেদ, যিনি स्थानीयদের কাছে কোনা জালের দালাল হিসেবে পরিচিত, তার ভাতিজা নুর আলমের সাথে মিলিত হয়ে তাহিরপুর সদর ও মধ্যনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কিছু কোনা জাল এনে হাওরে মাছ নিধনের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নুর আলম টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের সাথেও জড়িত রয়েছেন।

এদিকে, হাওরের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নূর আলম এবং তার চাচাতো ভাই কমিউনিটি গার্ড সদস্য হাবিব মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফোনে হুমকি প্রদান এবং দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্ব করার গুরুতর অভিযোগগুলো স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করছে। তবে এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর উপর এখনো কোন নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনার পূর্বেই সহায়তাকারী মহল থেকে অনেক সময় তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, মূল অভিযুক্তরা চলে যেতে সক্ষম হন এবং অভিযানের সময় সাধারণ ও দরিদ্র মৎস্যজীবীরা বেশি হয়রানির শিকার হন। তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধীরা ধরার বাইরে থেকেই যাচ্ছে। আরো অভিযোগ রয়েছে যে, যারা মাছ সংরক্ষণে জড়িত প্রভাবশালী মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখে না, তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি হয়রানির শিকার হন। স্থানীয়রা বলছেন যে, এ সমস্ত অভিযোগের আড়ালে একটি অদৃশ্য প্রভাব পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমূলক আচরণ কাজ করছে। পাশাপাশি অভিযানে জব্দ হওয়া নৌকা ও ইঞ্জিন ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

Exit mobile version